আদর্শই চলার পথ
সাংসারিক ঐশ্বর্য দিয়ে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়, ঐহিক সুখ-সুবিধা দিয়ে মানুষের অন্তর জয় করা যায়—এই বিশ্বাস বর্তমান জীবনের একটা ভ্রান্তি। ডক্টর সর্বেপল্লী রাধাকৃষ্ণণ বলছেন, ধরে নেওয়া হয় যে প্রত্যেকের ঐহিক অভাব যদি সম্পূর্ণভাবে মিটে যায় তাহলেই তার স্বর্গের ও পরম মূল্যের বাসনাও লোপ পাবে। কিন্তু জীবনের চেয়ে অধিক মূল্যবান কোন ঐহিক সুখ-সুবিধা আছে কি, মৃত্যুর থেকে কোন ভীষণতর ঐহিক সংকট কি আছে? আমরা স্বার্থের থেকে প্রবৃত্তি ও আদর্শ দিয়ে বেশি চালিত হই। জীবন শুধু আর্থিক মূল্যে হিসাব করা যায় না। আমরা মানুষ শুধু উৎপাদক বা খাদক, শ্রমিক বা ক্রেতা নই। পৃথিবী যদিও ধনধান্যে পূর্ণ স্বর্গরাজ্য হয়, আমাদের সকলের যদি সস্তায় মোটরগাড়ি ও অন্যান্য বিলাস দ্রব্য থাকেও তাহলেই মানসিক শান্তি বা আসল সুখ আসবে না। যেসব নর-নারীর জড় সভ্যতার সমস্ত প্রকার আরাম ও সুবিধা, আয়ত্তে আছে তারাও নিজেদের ব্যর্থ মনে করছে, যেন কিছু থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। মানুষের বাঁচবার উদ্দেশ্য বর্তমান আরাম নয়, আত্মার জীবন, নৈর্ব্যক্তিক লক্ষ্যের সন্ধান, আত্মরতি, আত্মক্রীড়া। শাসন যন্ত্র দ্বারা যে মন চূর্ণ হয়নি, অন্ধকারের শক্তি দ্বারা দৈব আলোক যেখানে চাপা পড়েনি সেখানেই মনুষ্যত্বের আশা। বাহিরের আর অন্তরের সুখ যেন আমরা গুলিয়ে না ফেলি। দৈব যদি অনুকূল হয় তাহলে আমরা দীপ্ত চোখে পৃথিবীর শ্রদ্ধা প্রশংসা ও ভালোবাসা পেয়ে ধন্য হয়ে স্বচ্ছন্দে জীবন কাটিয়ে দিই। সদাচার, মার্জিত রুচি, এই হল সুখের আধার ; কুশ্রীতা, ইতরতা, খলতাই হলো অসুখের কারণ। সরল জীবন, সামান্য সৌহার্দ, সামান্য সুখ, যার সাধনে নিজেকে সমর্পণ করতে পারি এমন একটা উদ্দেশ্য এসব আমরা সকলেই চাই। কিন্তু জীবন ও সত্য সম্বন্ধে ধারণা থেকেই সভ্য মানুষকে বর্বর থেকে পৃথক করা যায়। সভ্য মানুষ সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য ও যুক্তি শান্তভাবে বিবেচনা করে মীমাংসায় উপনীত হয়, কিন্তু বর্বরেরা উত্তেজনা, কুসংস্কার ও তাৎক্ষণিক বাঁধা ব্যবস্থা দিয়ে চালিত হয়। আজ শিক্ষক দিবসে সকল গুণী শিক্ষক- শিক্ষিকা ও সকল শিক্ষানুরাগী সম্মানীয় সুধীজনকে শ্রদ্ধা জানাই।

