ভগবৎ কৃপার অর্থ
দুঃখ, কষ্ট, মর্যাদাহানি প্রভৃতি কোন না কোন আকারে জীবনে আসে তা কেউ এড়াতে পারে না। আমরা ঈশ্বরের কাছে সুখ চাই, শান্তি চাই। আমাদের আধ্যাত্মিক আচার্যগণ বলেন, দুঃখও চাইতে হবে না, সুখও চাইতে হবে না, চাইতে হবে একমাত্র ঈশ্বরকে যিনি এই দুয়ের পারে। ঈশ্বর কৃপায় আমাদের যে সব রকম দৈহিক দুঃখ, শোক দূর হবেই এমন নয়, কিন্তু ঈশ্বরের কৃপা লাভ করলে জীবনের অগ্নিপরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হতে পারবো আর এই কাজে আমাদের ভিতর যে আবর্জনা আছে তাও পুড়ে যাবে। এর ফলে বৃদ্ধি পাবে আমাদের আন্তরিক পবিত্রতা ও শরণাগতির মনোভাব। আমাদের দুঃখ-কষ্ট আশীর্বাদ হয়ে উঠবে যদি সেগুলি আমাদের কাছে শুদ্ধ জ্ঞান ও অচলা ভক্তি এনে দেয়। জীবনকে ভালোভাবে দেখলে বোঝা যায়, ঈশ্বরকৃপা বলতে কেবলই দুঃখ কষ্ট দূর হওয়া নয়। ঈশ্বরের কৃপা ভক্তের অন্তরে এক অদ্ভুত সমতা ও শক্তি এনে দিয়ে তাকে সব রকম সমস্যা ও বাধার মুখোমুখি হবার উপযুক্ত করে, তাকে পবিত্রতর করে এবং ঈশ্বরের অস্তিত্ববোধে সমর্থ করে—যা তীব্রতম দুঃখ যন্ত্রণার মাঝেও তার অন্তরে শান্তি এনে দেয়। প্রকৃত শান্তি নিদ্রার মতো নয়। এ হলো মনের এমন এক শান্ত অবস্থা যা ব্যক্তিকে দুঃখ কষ্ট ও বাধা-বাধাবিপত্তির মাঝে অবিচলিত থাকতে এবং এক বিরাটতর সত্যের সংস্পর্শে আসতে সাহায্য করে। যারা জীবনের বাধা-বিপত্তি থেকে দূরে পালায়, তারা নিজেদের দুর্বল থেকে দুর্বলতর করে ফেলে। যারা সব সময় সুখ খোঁজে, আর কর্তব্যকর্ম এড়িয়ে চলে তাদের জীবনের উন্নতির পথ বন্ধ হয়ে যায়। তারা কখনো আধ্যাত্মিক পূর্ণতায় পৌঁছতে পারে না। তুচ্ছ পার্থিব বস্তু কেবল ঈশ্বরকে ও আমাদের আধ্যাত্মিক নিয়তিকে ভুলিয়ে দেয়, তাই তা লাভের চেষ্টা না করে আমাদের উচিত হবে আরো ঈশ্বরকৃপা ও আরো ঈশ্বরপ্রেম লাভে মনোযোগ দেওয়া।

