মানবরূপে মর্ত্যলীলা
মর্তে লীলা করেছেন ৬৯ বছর ১ মাস ২০ দিন। বারো বছর বয়সে তাড়কা বধের উদ্দেশ্যে বিশ্বামিত্রের সঙ্গে যাত্রা। তের বছর বয়সে বিবাহ, অযোধ্যায় ১২ বছর এবং বনবাসে ১৪ বছর কাল যাপন, মোট ৩৯ বছর। সিংহাসনে বসেন ওই বয়সে। তারপর ত্রিশ বছর এক মাস দশ দিন রাজত্ব করে মহাপ্রস্থান করেন। বাল্মিকী রামায়ণে রামের মহাপ্রস্থানের যে দৃশ্য আছে তা ভারতের ইতিহাসেই সম্ভব। মহাকাব্যের শেষ হলো বিচ্ছেদে নয় এক পরম শান্তিতে। সকল কামনা বাসনার ঊর্ধ্বে, সকল মিলন বিচ্ছেদের পারে যে দিব্য প্রশান্তি, দেহবোধহীন আত্মরতি, জ্যোতির্ময় দিব্যসত্তা, সেখানেই চলে গেলেন রাম লক্ষণ ভরত শত্রুঘ্ন এবং অসংখ্য অনুচর। কারো মনে বিষাদ ছিল না, জীবনের পূর্ণতায় সকলের ছিল এক দিব্য আনন্দ ও অপার শান্তি। রাম ও কৃষ্ণ কে নিয়ে ভারতের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। উত্তর ভারতেই তুলসীদাসের রামায়ণ আজও প্রায় প্রতিগৃহেই পাঠ করা হয়। রামের চরিত্র ভারতবাসীকে মুগ্ধ করেছে চিরদিনের জন্য। তাঁর শৌর্য- বীর্য, ক্ষমা, আশ্রিত বাৎসল্য, পিতৃভক্তি, ভ্রাতৃ প্রেম, পত্নী প্রেম, বন্ধু প্রীতি, প্রজানুরঞ্জন, তাঁর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি অনুরাগ, তাঁর ধর্ম পালনে সর্বপ্রকার ত্যাগ প্রভৃতি গুণের জন্য তাঁর চরিত্র আমাদের এত প্রিয়। সীতাকে তিনি ত্যাগ করেননি। তাঁর ধর্ম—প্রজাপালন। তিনি সর্বস্ব ত্যাগ করে সর্বস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে তা পালন করেছেন। মানুষের কাছে আদর্শ নৃপতির দৃষ্টান্ত রেখেছেন সীতাকে ত্যাগ করে। কিন্তু লোকনিন্দা কে সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করে স্বর্ণসীতা নির্মাণ করে সীতার পবিত্রতার কথা জগতে অকুণ্ঠিত চিত্তে ঘোষণা করেছেন। এইভাবে তিনি জনমতের প্রতিবাদ করেন। রাম নামে মানুষের মুক্তি। রাম আমাদের হৃদয়ের চির উজ্জ্বল মণি, জীবনের ধ্রুবতারা ও মরণের সাথী।

