বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
বোধিবৃক্ষ

স্থিরতা ও শান্তভাব

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৬
স্থিরতা ও শান্তভাব
সন্দীপ সিনহাসন্দীপ সিনহা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

তেজ, ক্ষমা, ধৈর্য, পরিচ্ছন্নতা, কারোর প্রতি শত্রুভাব না আসা এবং নিজেকে খুব বড় বলে মনে না করা —এগুলি সবই দৈবী সম্পদ। গীতায় এসম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা আছে। বলা হচ্ছে উগ্ৰ অহংকারী হলে ব্যক্তিত্বের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ক্ষমা মানুষের মনে ইতিবাচক অনুভূতি বাড়ায়। ধৈর্য মনের স্থিরতা ও শান্তভাব বাড়ায়। ধৈর্য ও ক্ষমা হলো হৃদয়ের কাজ। তেজ ও উগ্ৰ অহংকার (দর্প) মস্তিষ্ক ও বুদ্ধির কাজ। বিচারের মাধ্যমে এই দুটির প্রয়োগ ও অপ্রয়োগ ঠিক করতে হয়। শৌচম বা শুদ্ধ করা এবং কাউকে শত্রু বলে মনে না করা অর্থাৎ অদ্রোহ —এই দুটিই কর্মের ক্ষেত্র। সামগ্ৰিকভাবে এর তাৎপর্য হলো—মস্তিষ্ক, হৃদয় ও কর্মের মধ্যে সমন্বয় সাধন এটা হলো সমন্বয়ী মানুষ হয়ে ওঠার গুণ। কিন্তু বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষ সরলতা হারিয়ে কপট মানুষ ও সমন্বয়ী ব্যক্তিত্বের পরিবর্তে খন্ড ব্যক্তিত্বের মানুষ হয়ে পড়ছেন। এর জন্যই তার চিন্তা ও কর্মের মধ্যে পার্থক্য।  তার চিন্তা একদিকে চলছে আর হৃদয় আর একদিকে। ফলে তার কর্ম হয়ে পড়ছে অসংলগ্ন। পুঁথিগত বিদ্যার সঙ্গে অধ্যাত্ম বিদ্যা না থাকায় তার মুখে বিশ্বপ্রেম কিন্তু কাজে গোষ্ঠী-প্রেম, স্বার্থ- প্রেম। আসলে এই ধরনের মানুষ জানে না তার প্রকৃত চাহিদা কী? নিজেই জানে না সে কি চাইছে। সহজ জীবনকে ঘরে-বাইরে জটিল করে তুলছে। আবার এটাও দেখা যায়,নিজের আসল উদ্দেশ্য বা মনোভাব লুকিয়ে অন্য ভাবকে প্রকাশ করছে। জীবনের কোনো মহান উদ্দেশ্য আছে এটা এরা মনে করে না। জীবন এদের কাছে আর পাঁচটা ঘটনার মতোই সাধারণ। এই জীবনটা শুধু ভোগ কর আর ধ্বংস করো- এই জন্য নয়। এরজন্য পশুরা আছে। এই জীবনটা সৃষ্টির কাজে নিয়োজিত করার জন্য, এই জীবনেই সুকৃতির দ্বারা নিজের প্রকৃত স্বরূপকে প্রকাশিত করা ও দেবত্বের উপলব্ধি করাই একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

আরও বোধিবৃক্ষ খবর