হরমুজ সংকটের আবহে পুতিন-মোদি বৈঠক, কূটনৈতিক ‘চালে’ কোণঠাসা আমেরিকা
নিজস্ব প্রতিনিধি: যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর অবরোধকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে উত্তাল বিশ্ব অর্থনীতি। বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের আবহেই রাশিয়ার কাজানে আয়োজিত অষ্টাদশ ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে এক বিশেষ কূটনৈতিক চাল চালল ভারত। সম্মেলনের মূল পর্ব শুরুর আগেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই বৈঠকের জেরে কার্যত ব্যাকফুটে চলে গেল আমেরিকা।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠক শুরু হওয়ার ঠিক আগে পুতিনের হাতে এক প্রখ্যাত তামিল কবির বই উপহার হিসেবে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এই সৌজন্যমূলক বার্তার পর দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা চলে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে এই বৈঠকে। মূলত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ, বাণিজ্য ঘাটতি মেটানো, মহাকাশ ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতা এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে সদর্থক কথাবার্তা হয়েছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বৈঠকের গুরুত্ব অপরিসীম। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই রাশিয়ার ওপর একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু সেই চাপ উপেক্ষা করেই ভারতের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, একদিকে আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং অন্যদিকে রাশিয়ার মতো পুরনো বন্ধুকে পাশে রাখা— এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে ভারত এক ধুরন্ধর কূটনীতির পরিচয় দিল।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার কারণে যখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া, তখন রাশিয়ার থেকে সস্তায় জ্বালানি পাওয়ার পথ সুগম রাখল নয়াদিল্লি। এই বৈঠক স্পষ্ট করে দিল যে, কোনো এক একক মহাশক্তির চাপের কাছে মাথা নত করবে না ভারত। মোদি-পুতিনের এই রসায়ন ওয়াশিংটনের কপালে যে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করল, তা বলাই বাহুল্য।

