বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
দেশ

বেসরকারি হাসপাতালে লাগামছাড়া বিল: স্বচ্ছতা আনতে কড়া পদক্ষেপ কর্নাটক সরকারের

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
বেসরকারি হাসপাতালে লাগামছাড়া বিল: স্বচ্ছতা আনতে কড়া পদক্ষেপ কর্নাটক সরকারের
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি: রোগ যাই হোক না কেন, বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মানেই মধ্যবিত্তের পকেটে টান এবং লক্ষ লক্ষ টাকার বিল। কর্পোরেট পরিকাঠামোয় বেসরকারি হাসপাতালগুলির এই লাগামছাড়া চিকিৎসার খরচ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। সম্প্রতি সেই বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছেন মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (FDA) কমিশনার তুকারাম মুণ্ডে। গত সেপ্টেম্বর মাসে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে তিনি অভিযোগ করেন, চিকিৎসায় প্রায়শই ব্যবহৃত হয় এমন হসপিটাল কনজিউমেবল বা চিকিৎসা সামগ্রী আসল দামের চেয়ে ২৮৪১ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দাম দিয়ে রোগীদের কিনতে হচ্ছে।

মহারাষ্ট্রের এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের পরেই নড়েচড়ে বসেছে কংগ্রেস শাসিত কর্নাটক সরকার। বেসরকারি হাসপাতালগুলির এই 'লুট' রুখতে এবং বিলে স্বচ্ছতা আনতে গত ১ অক্টোবর কর্নাটকের 'ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন'-এর তরফে একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ওই নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, বেসরকারি হাসপাতালগুলি ওষুধ, চিকিৎসায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং কনজ়িউমেবল যে পাইকারি দামে কিনছে, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দাম বা এমআরপি (MRP) সাধারণ রোগীর পরিজনদের কাছ থেকে উসুল করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্নাটক সরকারের স্বাস্থ্য প্রশাসন নতুন নিয়ম চালু করেছে। এখন থেকে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচের বিলে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। হাসপাতালগুলি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাইকারি দরে কত টাকায় কিনছে (ক্রয়মূল্য) এবং রোগীর পরিবারের কাছ থেকে কত টাকা সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP) নেওয়া হচ্ছে, বিলের মধ্যে তার স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে। চিকিৎসা পরিষেবায় এই বেনজির মুনাফা লোটার খেলায় লাগাম টানতেই কংগ্রেস শাসিত রাজ্যটি এই কড়া পদক্ষেপ করেছে বলে জানা গিয়েছে।
বাংলায় ২০১৭ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট আইন চালু হয়। সেই আইনের প্রেক্ষিতে বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ শোনার জন্য স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এরপরও বেসরকারি হাসপাতাল নিয়ে অভিযোগের সংখ্যা কমেনি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে স্বাস্থ্য কমিশন নতুন করে গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে প্রথম শুনানি করে নবগঠিত স্বাস্থ্য কমিশন। এদিন সাতটি মামলার শুনানি হয়। সেই সকল মামলার শুনানি শেষে চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ বলেন, ‘‘আমরা চেষ্টা করছি যাতে বেসরকারি হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে অভিযোগের সংখ্যা কমে আসে। তবে সামগ্রিক ব্যবস্থা আশাব্যঞ্জক নয়। সামগ্রিক ব্যবস্থার অনেক বেশি উন্নতি প্রয়োজন। রোগীর যা যা সুবিধা পাওয়ার দরকার তা তাঁরা অনেক ক্ষেত্রে পাচ্ছেন না। এই ধরনের বিষয়গুলির বদল ঘটানোর প্রশ্নে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে এবং আমরা সেটা করেই ছাড়ব।’’

আরও দেশ খবর