দেশ
কাশ্মীরে সেনার বড় সাফল্য, খতম লস্কর কমান্ডার ইয়াসির
প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি দমনে আবার বড়সড় সাফল্য পেল ভারতীয় সেনা। মধ্য কাশ্মীরের বুদগাম জেলার ইউসমার্গ এলাকার উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এক তীব্র এনকাউন্টার বা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র প্রথম সারির পাকিস্তানি কমান্ডার ইয়াসির। শনিবার জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের তরফে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই বুদগামের ওই দুর্গম পার্বত্য এলাকায় কয়েকজন ভারী অস্ত্রধারী জঙ্গির গতিবিধির খবর আসছিল গোয়েন্দাদের কাছে। সেই নির্দিষ্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই কোমর বেঁধে ময়দানে নামে যৌথ বাহিনী। লস্কর জঙ্গিদের ডেরা গুঁড়িয়ে দিতে ভারতীয় সেনার স্পেশাল ফোর্সেস এবং ৫৩ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস যৌথভাবে ওই পাহাড়ি অঞ্চলে এক সাঁড়াশি তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে জঙ্গিদের পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেয়। জওয়ানেরা যখন জঙ্গিদের একদম কাছাকাছি পৌঁছে যান, তখনই পাহাড়ের আড়াল থেকে অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিরা। আত্মরক্ষায় বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে যৌথ বাহিনীও। দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে তুমুল গোলাগুলি। অবশেষে ভারতীয় জওয়ানের নিখুঁত নিশানায় খতম হয় লস্কর কমান্ডার ইয়াসির। মৃত জঙ্গির পাশ থেকে একটি একে-সিরিজের রাইফেল এবং প্রচুর যুদ্ধাস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সেনা কর্তারা জানিয়েছেন, নিহত ইয়াসির আদতে পাকিস্তানের বাসিন্দা ছিল। উপত্যকায় লস্করের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে তার বড় ভূমিকা ছিল। এর আগে সে কুখ্যাত সুলাইমান মুসা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, প্রায় এক বছর আগে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের আলাদা দল তৈরি করে ইউসমার্গ এলাকায় নাশকতামূলক কাজ চালাচ্ছিল। কাশ্মীরে সাম্প্রতিক অতীতে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলার নেপথ্যে তার হাত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনার পর উপত্যকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং বাকি জঙ্গিদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি জারি রয়েছে।

