খনি সুরক্ষায় ৮৮ বছরের ইঞ্জিনিয়ারের যুগান্তকারী আবিষ্কার, সম্মানিত দম্পতি
নিজস্ব প্রতিনিধি: কয়লা খনির অন্ধকূপ থেকে শ্রমিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে এক অভাবনীয় কবচ তৈরি করলেন পূর্ব বর্ধমানের ৮৮ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার প্রশান্ত কুমার ভট্টাচার্য এবং তাঁর স্ত্রী প্রতিমা ভট্টাচার্য। খনির গভীরে লিফট বা 'কেজ' (Mine Cage) তার ছিঁড়ে পড়ে গিয়ে প্রায়শই যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, তা রুখতে একটি স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থা (Automatic Safety System) আবিষ্কার করেছেন এই প্রবীণ দম্পতি। তাঁদের এই অনন্য যৌথ উদ্ভাবন ইতিমধ্যেই ভারত সরকারের পেটেন্ট (Patent) লাভ করেছে। এই যুগান্তকারী সাফল্যের জন্য সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের বিশেষভাবে সংবর্ধিত করা হয়।
পেশাগত জীবনে খনিতে কাজ করার সময় চোখের সামনে একাধিক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এবং খনি শ্রমিকদের মৃত্যু দেখেছেন প্রশান্তবাবু। বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান-সহ দেশের বিভিন্ন কয়লাখনিতে কেজ ছিঁড়ে পড়ার দুর্ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। অবসর নেওয়ার পর থেকেই এই মৃত্যুর মিছিল রোখার উপায় খুঁজতে শুরু করেন তিনি। তাঁর এই গবেষণার কাজে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন স্ত্রী প্রতিমা দেবী। স্বামীর মেধা আর স্ত্রীর অক্লান্ত সহযোগিতায় অবশেষে তৈরি হয় এই বিশেষ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, যা কেজের তার ছিঁড়ে গেলেও সেটিকে মাঝপথেই আটকে দেবে। ফলে খনির কয়েকশো ফুট নিচে আছড়ে পড়ার হাত থেকে বেঁচে যাবে শ্রমিকদের প্রাণ।
৮৮ বছর বয়সে এসেও খনি শ্রমিকদের জীবন রক্ষায় এই প্রবীণ দম্পতির এমন নিরলস প্রচেষ্টা এবং পেটেন্ট প্রাপ্তি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহলে সাড়া ফেলে দিয়েছে। সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত গুণীজনেরা জানান, এই প্রযুক্তি খনি শিল্পে প্রয়োগ করা হলে আগামী দিনে বহু শ্রমিকের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে। সস্ত্রীক প্রশান্তবাবুর এই অসাধ্য সাধন প্রমাণ করল যে, মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য বয়স কোনও বাধা নয়, শুধুমাত্র সদিচ্ছাই যথেষ্ট।

