দেশ
পিছিয়ে পড়া দেশের জন্য সরব প্রধানমন্ত্রী মোদী
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক শাসন ব্যবস্থার পিরামিড কাঠামো বদলে বিশ্বের পিছিয়ে থাকা দেশগুলিকে নীতি নির্ধারণের মূল স্রোতে নিয়ে আসার ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের আয়োজক রাষ্ট্রের নেতা হিসেবে উদ্বোধনী বক্তৃতায় আজ অত্যন্ত জোরালো সওয়াল করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানান, ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বিশ্বের উন্নয়নশীল ও পিছিয়ে থাকা দেশগুলি যেন শুধু আন্তর্জাতিক বিধিবদ্ধতার গ্রহীতা হয়ে না থাকে, তারা যেন এবার থেকে ‘নীতি নির্ধারণেও সক্রিয় ভূমিকা’ নিতে পারে।
এ দিন বিশ্বব্যবস্থার বর্তমান রূপরেখাকে একটি পিরামিডের সঙ্গে তুলনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান আন্তর্জাতিক শাসন ব্যবস্থার উপরের দিকে ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার মুষ্টিমেয় কিছু দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত। আর পিরামিডের নীচের দিকে রয়েছে সেই সব দেশ, যারা ওপরের নেওয়া সিদ্ধান্তের দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত ও ভুক্তভোগী হলেও সিদ্ধান্ত তৈরির প্রক্রিয়ায় যাদের নামমাত্র ভূমিকা রয়েছে। মোদী সাফ জানান, বিশ্বের বিভিন্ন সঙ্কটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্লোবাল সাউথকে সবসময় পিছনের সারিতে ঠেলে দেওয়া হয়। এই বৈষম্য দূর করতে ব্রিকসকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিশ্বব্যবস্থার সংস্কারের পথ তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়নশীল দেশগুলির অধিকার রক্ষার পাশাপাশি এ দিনের মঞ্চ থেকে বৈশ্বিক সুরক্ষার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও আলোকপাত করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির স্বার্থে নিরাপদ সমুদ্রপথ গড়ে তোলা, অবাধ সরবরাহ-শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) বজায় রাখা এবং সমুদ্রের বুকে কর্মরত নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ জোর দেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের সময় ইরান এবং আমেরিকা— দু’পক্ষের হামলাতেই ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের নাবিকদের প্রাণহানি হয়েছে। মোদীর কথায়, ‘‘বিশ্ব বাণিজ্যে নাবিকদের অবদান অপরিসীম। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁরা প্রায়ই প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাব অনুভব করেন। তাই নাবিকদের জন্য জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।’’ তাঁর প্রস্তাব, ব্রিকসভুক্ত রাষ্ট্রগুলির সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ এবং দূতাবাসগুলিকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হোক। এর মাধ্যমে বিপদ সঙ্কেতের ক্ষেত্রে দ্রুত সহায়তা, চিকিৎসা পরিষেবা, পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া এবং প্রয়োজনে নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন তিনি। কূটনৈতিক মহলের মতে, ব্রিকসের মঞ্চ থেকে দিল্লির এই বার্তা আসলে পশ্চিমি দুনিয়া ও চিনের একাধিপত্যের বিরুদ্ধে উন্নয়নশীল বিশ্বের সম্মিলিত কণ্ঠস্বরকে আরও জোরালো করল।

