জেলা
অচেনা নম্বরের ভিডিও কলে ফাঁদ, ১ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা খোয়ালেন যুবক
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: অচেনা নম্বর থেকে আসা একটি হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) ভিডিও কল রিসিভ করতেই নেমে এল চরম বিপর্যয়। ব্ল্যাকমেইলিংয়ের জেরে সাইবার প্রতারণার শিকার হয়ে নিজের জমানো ১ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা খোয়ালেন বাঁকুড়ার কোতুলপুরের এক যুবক। সম্মানহানির ভয়ে নিজের সব পুঁজি প্রতারকদের হাতে তুলে দেওয়ার পর, শেষে আরও টাকা দাবি করায় নিরুপায় হয়ে সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে ওই যুবকের মোবাইলে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ভিডিও কল আসে। কলটি রিসিভ করতেই স্ক্রিনে এক বিবস্ত্র মহিলাকে দেখতে পান তিনি। যুবক কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রতারকরা ওপ্রান্ত থেকে তাঁর মুখের অবয়বসহ ওই মহিলার একটি আপত্তিকর স্ক্রিন রেকর্ড বা ভিডিও তৈরি করে নেয়। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই শুরু হয় আসল খেলা। ওই জাল এডিটেড ভিডিওটি যুবকের আত্মীয় ও পরিচিতদের কাছে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দফায় দফায় টাকা দাবি করা শুরু হয়। লোকলজ্জা ও মান-সম্মানের ভয়ে ওই যুবক তাঁর সঞ্চয়ের ১ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা প্রতারকদের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেন।
কিন্তু এখানেই শেষ হয়নি হেনস্থা। টাকা পাওয়ার পর প্রতারকদের লোভ আরও বেড়ে যায়। যুবককে ভয় দেখাতে এরপর পাতানো হয় ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest)-এর ফাঁদ। প্রতারকরা তাঁকে ফোন করে জানায় যে, মুম্বই পুলিশে তাঁর নামে এক মহিলার ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গ্রেফতারি এড়াতে আরও লক্ষাধিক টাকা চাওয়া হয়। এমনকি, ভয় দেখাতে পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি ভিডিও কল করে তাঁকে গ্রেফতার করার ভুয়ো হুমকিও দেয়। কিন্তু যুবকের আর টাকা দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায়, অবশেষে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি এক বড়সড় সাইবার চক্রের খপ্পরে পড়েছেন। এরপরই তিনি বাঁকুড়া সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

