মিষ্টিতে মেশানো হচ্ছিল দোলের রাসায়নিক রং! মহিষাদলের পর এবার ভগবানপুরেও কড়া পদক্ষেপ
নিজস্ব সংবাদদাতা, তমলুক: উৎসবের মরশুমে বাঙালির পাতে বিষ! জিভে জল আনা মনোলোভা রঙিন মিষ্টি তৈরিতে দেদার মেশানো হচ্ছিল দোল ও হোলির ক্ষতিকর রাসায়নিক রং। যে রঙের বিষক্রিয়ায় শরীরে থাবা বসাতে পারে ক্যানসারের মতো মারণ রোগ। জেলা জুড়ে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের বিশেষ অভিযানে মিষ্টির দোকানের এই ভয়ঙ্কর কীর্তি হাতেনাতে ধরে ফেললেন আধিকারিকরা। বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর এলাকার এক মিষ্টির দোকানে হানা দিয়ে এই চরম অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক কারবারের পর্দাফাঁস হয়েছে। অভিযুক্ত দোকানদারকে ইতিমধ্যেই শোকজ নোটিস ধরানো হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য জুড়ে ‘খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ’ উদযাপনের অঙ্গ হিসেবেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়েই কড়া অভিযান চালাচ্ছে খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ। নামী-দামী হোটেল ও রেস্তরাঁর পাশাপাশি সমস্ত ধরণের খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থায় অতর্কিতে হানা দিচ্ছেন আধিকারিকরা। আর এই তল্লাশিতেই উঠে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। অভিযোগ, জেলার সিংহভাগ মিষ্টির দোকান ও হোটেলের খাবার তৈরির কোনও বৈধ লাইসেন্স বা সরকারি অনুমতিই নেই। আবার আঙুলমেয় কয়েকটি দোকানের লাইসেন্স থাকলেও, সেখানে খাবার তৈরিতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা মানার বালাই নেই।
খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের দাবি, সবচেয়ে শোচনীয় ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ধরা পড়েছে মিষ্টির দোকানগুলিতে। ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে ক্ষতিকর সিন্থেটিক রঙের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করা হচ্ছে। ভগবানপুরের ওই মিষ্টির দোকান থেকে রাসায়নিক রঙের কৌটো বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি মিষ্টির নমুনাও ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। উৎসবের মুখে এই ভেজাল ও বিষ-রঙের রমরমা রুখতে আগামী দিনগুলিতেও জেলার সমস্ত ব্লকে এই কঠোর অভিযান জারি থাকবে।

