গণধর্ষণে অভিযুক্ত তৃণমূল প্রধানকে এলাকায় হাঁটাল পুলিশ
নিজস্ব প্রতিনিধি: গণধর্ষণ-সহ একাধিক গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক তৃণমূল নেতা তথা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে গ্রেপ্তার করে এলাকায় ঘোরাল পুলিশ। সোমবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার নেপালগঞ্জ বাজার এলাকায়। ধৃত ওই নেতার নাম ভোলা সর্দার। তিনি পানাকুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন।
রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন এই তৃণমূল নেতা। পুলিশ সূত্রের খবর, বিগত তৃণমূল জমানায় ভোলা সর্দারের বিরুদ্ধে এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার, তোলাবাজি এবং একটি গণধর্ষণের মামলা-সহ একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে এবং দিন কয়েক আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার দুপুরে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ ধৃত ভোলা সর্দারকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নেপালগঞ্জ বাজারে নিয়ে আসে। এরপর অপরাধের গুরুত্ব বোঝাতে এবং সাধারণ মানুষের মন থেকে ভয় দূর করতে তাঁকে প্রকাশ্য রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ হাঁটানো হয়। প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানকে হাতকড়া পরা অবস্থায় রাস্তায় হাঁটতে দেখে স্থানীয় মানুষজন ভিড় জমান। অনেকের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পুলিশ এলাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কড়া বার্তা দিতে চেয়েছে।
প্রশাসনিক এই পদক্ষেপের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পুরনো হুঁশিয়ারি নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তিনি আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, বিগত সরকারের আমলে যাঁরা অন্যায় বা নারী নির্যাতনের মতো অপরাধে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যে পালাবদলের পর প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়ক থেকে শুরু করে জেলা স্তরের একাধিক তৃণমূল নেতা ইতিমধ্যেই শ্রীঘরে গিয়েছেন। ভোলা সর্দারের এই পরিণতি সেই তালিকায় নতুন সংযোজন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

