জেলা
ইঁদুরের কারসাজিতে ফারাক্কার রেল লাইনে ধস! ভোগান্তি যাত্রীদের
প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: ট্রেনের চাকা থামিয়ে দিল ইঁদুর! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ফরাক্কা থেকে ধুলিয়ানের (Farakka-Dhuliyan) মধ্যবর্তী রেলপথে ভয়াবহ ধসের নেপথ্যে এখন এই পুঁচকে প্রাণীর কারসাজিই রেলের সন্দেহের কেন্দ্রে। শুধু বাংলার মাটিতেই নয়, গত বৃহস্পতিবার ধস নেমেছে অসমের জামিরা এবং মিজোরামের ভৈরবীর মধ্যবর্তী রেল ট্র্যাকেও। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই পার্বত্য অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ধসের অন্যতম উৎস হিসেবে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে ইঁদুরকে। ফলে, পূর্ব রেলের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের (NFR) অন্তর্গত ট্রেন পরিষেবাও মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
রেল আধিকারিক ও বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, রেললাইনের ধারের নরম মাটিতে নিয়মিত গর্ত তৈরি করে ইঁদুরের দল। মাটির গভীরে একের পর এক তৈরি হওয়া এই সুড়ঙ্গের জেরে ভেতরের অংশ ক্রমশ ফাঁপা হতে থাকে। বর্ষার মরশুমে সেই ফাঁপা অংশে জল ঢুকলেই হুড়মুড় করে ধস নামে। ফরাক্কার ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই ঘটেছে বলে অনুমান। এই ঘটনার জেরে দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেস-সহ উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের সংযোগকারী একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, বেশ কিছুর রুট ডাইভার্ট করা হয়েছে। একইভাবে অসম-মিজোরামের কাটাখাল-ভৈরবী শাখাতেও ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ।
ইতিমধ্যেই দুই রেল জোনের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় লাইন মেরামতির কাজে নেমেছে। তবে ফরাক্কায় মেরামতির মাঝেই নতুন করে মাটি ধসে যাওয়ায় রেলের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি কবে নাগাদ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে এবং নতুন করে ট্রেনের চাকা গড়াবে, তা নিয়ে এখনও গভীর অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই ঘটনায় হাজার হাজার যাত্রী চূড়ান্ত নাকাল হচ্ছেন। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে যাত্রীরা।

