পৌষমেলা নিয়ে কাটল সংশয়, ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজনে সবুজ সংকেত প্রশাসনের
নিজস্ব প্রতিনিধি, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা আয়োজন নিয়ে অবশেষে সমস্ত জট কাটল। এবারও নির্ধারিত সময়েই ৭ পৌষ থেকে বোলপুরের মাঠে বসতে চলেছে এই ঐতিহাসিক মেলার আসর। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বীরভূম জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে দফায় দফায় আলোচনা চলছিল। সেই সূত্র ধরেই সোমবার ফের একটি উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে দু'পক্ষ। সেখানেই মেলা প্রাঙ্গণ ও তার পারিপার্শ্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ একাদিক প্রশাসনিক ও পঠনপাঠন সংক্রান্ত বিষয়ের পাশাপাশি এবারের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল আসন্ন পৌষমেলা। মেলা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে এবং সমস্ত রকম পরিকাঠামোগত সমস্যা দূর করতে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসন।
এদিনের প্রাথমিক দফার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ, কর্মসচিব বিকাশ মুখোপাধ্যায়, বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন, জেলা পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ এবং বোলপুরের মহকুমাশাসক ব্রততী দত্ত সহ অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকেরা। মেলা প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ আদালতের নিয়মবিধি বজায় রাখার পাশাপাশি পর্যটন দফতরের সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
বিশ্বভারতীর জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, মেলা আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর যৌথভাবে উদ্যোগী হয়েছে। এই প্রাথমিক সভার পর, আগামী নভেম্বর মাসে আরও একটি বিস্তারিত বৈঠক ডাকা হবে। সেখানেই মেলার দিনক্ষণ, স্টল বণ্টন এবং অন্যান্য খুঁটিনাটি বিষয় চূড়ান্ত করে রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বস্তিতে বোলপুর-শান্তিনিকেতনের ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী ও মেলাপ্রেমী মানুষ।

