বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
জেলা

বলির মাংস ভেজে দেবীকে নিবেদন করা হয় ভোগ 

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
বলির মাংস ভেজে দেবীকে নিবেদন করা হয় ভোগ 
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আজ চতুর্থী। পূর্ব বর্ধমানের মানকর সহ একাধিক এলাকায় বনেদি বাড়ির পুজোগুলিতে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। পুজোর আয়োজন ঘিরে তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। মানকর ভট্টাচার্য পাড়ার মুখোপাধ্যায় বাড়ির তিনশ বছরের প্রাচীন পুজো এলাকার বাসিন্দাদের কাছে তিন পুতুলের পুজো নামে খ্যাত। পূর্ব বর্ধমান জেলায় কালনায় এবং মানকরে এই পুজোর প্রচলন আছে। পরিবারের সদস্য তূণক গোস্বামী বলেন, মুখোপাধ্যায় পরিবারের আদি পুরুষ রামপদ মুখোপাধ্যায় এই পুজোর প্রচলন করেন। মাঝে কয়েক বছর বিভিন্ন কারণে মূর্তির বদলে ঘটে পুজো হয়। তবে স্বাধীনতা উত্তরকালে সুরেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের মেয়ের জন্ম গ্রহণের পর আবার মূর্তিতে পুজো শুরু হয়। এখানে পুজোয় রয়েছে বিশেষ রীতি। যেমন নবমীর দিন দেবীর সামনে ছাগ বলি দিয়ে সেই ভোগ নিবেদন করা হয়। তবে তা রান্না করা হয় না। একটি বড় হাতায় মাংস ভেজে দেবীকে নিবেদন করা হয়।

সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে দেবীকে যে ভোগ দেওয়া হবে তার চালের পরিমানের আলাদা নিয়ম রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, মহিষমর্দিনী পুজো কালনায় শ্রাবণ মাসে হয়। এখানে দুর্গা পুজোর সময় হয়। মহিষমর্দিনী মূর্তি হওয়ায় দেবী এখানে একাই থাকেন। তাঁর সঙ্গে লক্ষ্মী, গনেশ, কার্তিক সরস্বতী থাকে না।
মানকরের সরকার বাড়ির পুজোও প্রায় তিনশ বছরের প্রাচীন। এই মূর্তির বৈশিষ্ট্য হল এখানে মহিষাসুর নেই। আছেন দেবী দুর্গা, শিব, তাঁদের সন্তান ও বাহনেরা অর্থাৎ ষাঁড়, ইদুঁর ও ময়ূর। উল্লেখ্য, দেবীর কোন বাহন নেই। স্থানীয়দের কাছে মূর্তিটি কৈলাস মূর্তি নামে পরিচিত। এখানে বৈষ্ণব মতে দেবীকে পুজো করা হয়। দেবীকে অন্নভোগ দেওয়া হয় না। লুচি ভোগ দেওয়া হয় নানা ব্যাঞ্জন দিয়ে। বেসন আর গুড় দিয়ে নাড়ু বানানো হয় বাড়িতে, ভোগে সেটি নিবেদন করা হয়।
আউশগ্রাম-২ ব্লকের অমরপুর গ্রামের কায়স্থ পাড়ায় নবপত্রিকার পুজো হচ্ছে ৪৫০ বছর ধরে। বৈষ্ণব মতে এই পুজো সম্পন্ন হয়। নবপত্রিকার উপর দেবীর মুখমণ্ডল শোলা দিয়ে সাজানো হয়। প্রথম থেকেই এই রীতি চলছে। বৈষ্ণব মতে পুজো হওয়ায় এখানে কোন ছাগ বলি হয় না। তবে প্রথা মেনে চাল কুমড়ো বলি হয়। ষষ্ঠীর দিন সন্ধ্যায় বেলবরণ করা হয়। বেলবরণ অর্থাৎ নবপত্রিকার নটি গাছ নিয়ে পুজো হয়। সপ্তমীর সকালে চৌধুরী সরোবর থেকে দোলা আনা হয়। দশমীর দিন দেবীকে বিসর্জন করতে হয় এর অন্যথা হয় না। স্থানীয়রা এই পুজো দেখতে ভিড় করেন।

আরও জেলা খবর