জেলা
রাজ্যে বন্ধ হচ্ছে ২৫২টি মাদ্রাসা, কোপ বীরভূমেও
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব সংবাদদাতা, সিউড়ি: রাজ্যে ভুয়ো ও অস্তিত্বহীন মাদ্রাসার রমরমা রুখতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহন করেছে সরকার। প্রথম পর্যায়ের তদন্ত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই পর্বের পর রাজ্যের মোট ২৫২টি মাদ্রাসা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় শুধুমাত্র বীরভূম জেলারই ২৭টি মাদ্রাসা রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, পঠনপাঠন ও পরিকাঠামোয় ‘গুরুতর অসঙ্গতি’ ধরা পড়ায় রাজ্যের আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছে শিক্ষা দপ্তর। বীরভূমের কতগুলি মাদ্রাসা এই কারণ দর্শানোর তালিকায় রয়েছে, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট করেনি জেলা প্রশাসন। সরকারি এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে, তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে কংগ্রেস শিবির।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, দীর্ঘ দিন ধরেই মাদ্রাসার অনুমোদন ও সরকারি অনুদান নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠছিল। এরপরই জেলা প্রশাসনের বিশেষ দল জেলা জুড়ে মাদ্রাসাগুলির কার্যপদ্ধতি খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামে। আর তাতেই চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য সামনে এসেছে। দেখা গিয়েছে, বীরভূমের যে ২৭টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার সিংহভাগই খাতায়-কলমে অনুদান পেলেও বাস্তবে তাদের কোনো অস্তিত্বই নেই। সম্পূর্ণ ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন সরকারি টাকা নেওয়া হচ্ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তালিকায় থাকা সিউড়ি ১ ব্লকের বাঁশজোড় এবং সিউড়ি ২ ব্লকের পুরন্দরপুরের দুটি মাদ্রাসার নাম এলাকার বাসিন্দারাই কোনোদিন শোনেননি। একই রকম ভুতুড়ে মাদ্রাসার হদিশ মিলেছে লাভপুর ব্লকেও, যেখানে মাদ্রাসার বোর্ডে নাম থাকলেও বাস্তবে সেখানে কোনো বাড়ি বা শিক্ষক-ছাত্রের দেখা মেলেনি। এই বিপুল দুর্নীতির পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে সরকার আরও বড়সড় তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছে।

