বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

চাঁদার খাতার আড়ালে সমাজ সংস্কার, বাল্যবিবাহ রুখছে ‘অপরাজিতা’

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর, ২০২৬
চাঁদার খাতার আড়ালে সমাজ সংস্কার, বাল্যবিবাহ রুখছে ‘অপরাজিতা’
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিবেদন, তমলুক: এক হাতে শারদোৎসবের চাঁদার রসিদ বই, আর অন্য হাতে ঘরের মেয়েদের ভাগ্য বদলের অঙ্গীকার। উৎসবের মরশুমে এক অভিনব সামাজিক বিপ্লবের সাক্ষী থাকছে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক। পুজোর চাঁদা আদায়ের প্রথাগত চেনা ছবিকে হাতিয়ার করেই এবার বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ডিমারি গ্রামের একদল লড়াকু মহিলা। গ্রামের ‘অপরাজিতা’ ক্লাবের এই প্রমিলা বাহিনীর হাত ধরেই এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে সচেতনতার আলো।

পুজোর দিনগুলিতে ডিমারি গ্রামের ছবিটা একদম আলাদা। বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ছেন ক্লাবের মহিলারা। গৃহস্থরা পুজোর চাঁদা বের করে দেওয়ার মাঝেই শুরু হচ্ছে আসল কাজ। উৎসবের আমেজের আড়ালে তাঁরা খোঁজ নিচ্ছেন, “বাড়ির মেয়ের পড়াশোনা কেমন চলছে?” কিংবা “স্কুলে ঠিকমতো যাচ্ছে তো?” শুধু খোঁজ নেওয়াই নয়, আড্ডার ছলে অভিভাবকদের বুঝিয়ে বলছেন অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার মারাত্মক কুফল। শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি থেকে শুরু করে আইনি জটিলতা— সবটাই সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিয়ে তাঁরা অনুরোধ করছেন, কোনো অবস্থাতেই যেন নাবালিকা মেয়ের বিয়ে না দেওয়া হয়। 

এলাকার বাসিন্দারাও ক্লাবের মহিলাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেক অভিভাবকই স্বীকার করেছেন, পুজোর চাঁদা দিতে এসে ঘরের মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন আন্তরিক আলোচনা তাঁদের চোখ খুলে দিয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের মতে, আইন করে যা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না, মণ্ডপের চৌকাঠ পেরিয়ে বাংলার মা-বোনেদের এই সামাজিক সচেতনতা তা অনায়াসেই রুখে দিতে পারে। উৎসবের আলোয় ডিমারি গ্রামের ‘অপরাজিতা’রা এভাবেই অন্ধকার দূর করার নতুন এক চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন।