মহালয়ায় বেলেঘাটা-সেক্টর ফাইভ রুটে সফল মেট্রোর ট্রায়াল রান
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মহালয়ার পুণ্যলগ্নে কলকাতার মুকুটে জুড়ল নতুন পালক। শহরবাসীর যাতায়াত আরও মসৃণ করতে আরও একধাপ এগোল কলকাতা মেট্রো। শনিবার মহালয়ার পুণ্যতিথিতে বেলেঘাটা থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ (আইটি সেন্টার) পর্যন্ত বর্ধিত রুটে সফলভাবে সম্পন্ন হল মেট্রোর ট্রায়াল রান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই ট্রায়াল রান সফল হওয়ায় খুশি নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে মেট্রো কর্তৃপক্ষ— সকলেই। রেল সূত্রের খবর, এদিন কোনও যাত্রী ছাড়াই খালি রেক নিয়ে এই লাইনে মহড়া দৌড় চালানো হয়, যা সম্পূর্ণ সফল হয়েছে।
এই প্রকল্পের ইতিহাস অবশ্য বেশ দীর্ঘ। প্রায় ১৬ বছর আগে কবি সুভাষ থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এই মেট্রো প্রকল্পের সরকারি অনুমোদন মিলেছিল। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর, গত বছর কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া) থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত অংশে যাত্রী পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়। কিন্তু আইটি হাবে পৌঁছনোর ঠিক আগের মুহূর্তে, চিড়িংঘাটা মোড়ে এসে থমকে গিয়েছিল মেগা প্রকল্পের কাজ। জমি জট এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রায় পাঁচ বছর ওই এলাকায় মেট্রোর কাজ স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল।
তবে সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ছবিটা দ্রুত বদলাতে শুরু করে। জট কাটাতে মেলে দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন। আর অনুমতি পাওয়ার পরেই কোমর বেঁধে ময়দানে নামেন মেট্রোর ইঞ্জিনিয়াররা। ঝড়ের গতিতে কাজ শেষ করতে দিনরাত এক করে দেওয়া হয়। লক্ষ্য ছিল একটাই— সেক্টর ফাইভের আইটি সেক্টরে কর্মরত লক্ষ লক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর প্রতিদিনের যানযন্ত্রণা দূর করা। মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শেষ করে ট্রায়াল রানের জন্য প্রস্তুত করা হয় এই পথ।
মেট্রো রেলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই এই নতুন লাইনে আধুনিক 'কমিউনিকেশন বেসড ট্রেন কন্ট্রোল সিস্টেম' (CBTC) বসানোর কাজ শুরু হবে। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিলে ভবিষ্যতে চালক ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাত্রী বোঝাই ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে, পুজোর মরশুমে এই খবর তিলোত্তমার ট্রাফিক ব্যবস্থার ভোল বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক বড়সড় ইঙ্গিতবাহী।

