চতুর্থীতে কুস্মান্ডারূপে
দেবী দুর্গা সাধনার চতুর্থ স্তরে সাধকের কাছে আবির্ভূত হন কুষ্মান্ডা রূপে। আজ চতুর্থী তিথিতে মায়ের এই রূপ। কু=খারাপ,উষ্ম=গরম তাপ এবং অন্ডে=পেটে। খারাপ তাপ যার পেটে তিনিই কুষ্মান্ডা। সংসারে তাপ অর্থাৎ কষ্টই বেশি এবং এই তাপ বা তেজ সাধনার তেজ নয়,আসক্তির তেজ।এই জন্য এই তেজ খারাপ। এমন কষ্ট যে সংসারে, সেই আসক্তিকে যিনি খেয়ে ফেলেন বা সরিয়ে দেন তিনিই মা কুষ্মান্ডা। সাধনার আগের স্তরগুলিতে সাধক জাগ্ৰত অবস্থায় চোখ খুলে স্থূল জগতকে অনুভব করেন, আর সাধনার এই স্তরে সূক্ষ্ম জগতকে অনুভব করেন। এর পরবর্তী স্তরে সাধকের স্থূল দেহের বোধ মিলিয়ে যায়। ব্যক্তি মনের শেষ সীমায় পৌঁছে যান সাধক। কুষ্মান্ডা রূপে মা এই স্তরের কর্ত্রী বা ঈশ্বরী। সাধক এই উচ্চতর শক্তিগুলিকে ভালো কাজে লাগালে মা তাঁকে আরোও উচ্চ স্তরে নিয়ে যান। সীমিত ছোট্ট মনের অবসান ঘটে এবং বিশ্বমনের উদয় ঘটে। আর প্রলোভনে পড়ে শক্তির অপব্যবহার করলে মা সেই সাধকের পতন ঘটান। সাধনার এই স্তরে ব্যক্তিমনের বিলয়ে ক্ষুদ্র স্বার্থ দুর্বল হলেও নতুন শক্তির প্রলোভনে এই অহং আবার সবল হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বমন থেকে ব্যক্তিমনে নেমে যেতে পারে। এই স্তরটি হলো সাধন পথে একটা সন্ধিক্ষণ। সাধনার এই স্তরে ব্যক্তিমন পিছনে চলে গেছে, সাধকের সামনে এখন বিশ্বমন। এখানে এসে প্রাথমিক অবস্থায় তাকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে। নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে। সাধনা চালিয়ে যেতে মা কুষ্মান্ডা রূপে সাহায্য করেন।

