হট টপিক
পুলিশকে ‘দলদাস’ বলে তোপ হুমায়ুনের, গুরুত্ব দিতে নারাজ ডিআইজি
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মাত্র দু’দিন আগেই যে পুলিশের দরাজ প্রশংসা করেছিলেন, এবার সেই বহরমপুর থানার পুলিশের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বাবরি মসজিদে বিজেপির পতাকা লাগানোর ষড়যন্ত্র মামলায় বুধবার বহরমপুর থানায় ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন তিনি। আর থানা থেকে বেরিয়েই পুলিশের অতিসক্রিয়তাকে ‘অযথা হয়রানি’ বলে দাগিয়ে দিয়ে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা।
বুধবার দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবদ পর্ব শেষে বিকেলে হুমায়ুন ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘‘গত ২১ তারিখে এই মামলায় আমাকে প্রথম সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়েছিল। সেদিন সাড়ে চার ঘণ্টায় ৬০টি প্রশ্ন করা হয়। আমি যথাযথ উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আজকে সেই প্রশ্নমালা ছিল প্রায় ৩৪০টি! অর্থাৎ দুদিনে আমাকে ৪০০টি প্রশ্ন করা হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, আজকেও যে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হল তা মনে হল না, আবার ডাকলে আবার আসতে হবে। পুলিশের এই আচরণকে তীব্র নিশানা করে হুমায়ুন দাবি করেন, ‘‘যা আলোচনা, যা প্রশ্ন, এক কথায় অযথা হয়রানি করা ছাড়া অন্য কিছু দেখছি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে পুলিশ তাঁর দলদাস হয়ে কাজ করেছে। এখন শুভেন্দু অধিকারীর আমলেও দলদাসে পরিণত হয়েছে পুলিশ।’’
এদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব এবং হেনস্থার এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলেও তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামাতে রাজি নয় পুলিশ প্রশাসন। হুমায়ুনের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি অজিত সিংহ যাদব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘‘এটা আমাদের কাছে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় যে ওঁর কথার উত্তর দেব।’’ পুলিশের দাবি, মামলার তদন্তের স্বার্থেই এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে দিনকয়েকের ব্যবধানে বহরমপুর থানার পুলিশকে নিয়ে হুমায়ুনের এই ‘ইউ-টার্ন’কে ঘিরে জেলা রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

