থাপার গোলে স্বপ্ন দেখল যুবভারতী, তবুও হাফ ডজন গোল হজম ভারতের
নিজস্ব প্রতিনিধি: ব্রাজিলের বিরুদ্ধে চার গোল খাওয়ার পর, দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের সামনে বুক চিতিয়ে লড়াই শুরু করেছিল ভারত। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ম্যাচের প্রথম আধ ঘণ্টা জুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে আশার আলো জ্বালিয়েছিলেন অনিরুদ্ধ থাপারা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খেই হারাল টিম ইন্ডিয়া। আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচে শেষ পর্যন্ত দিয়েগো ফোরলানের দলের কাছে ১-৬ গোলে বড়সড় আত্মসমর্পণ করল খালিদ জামিলের ছেলেরা। ছ’টি গোলের মধ্যে পাঁচটিই করলেন উরুগুয়ের বিশ্বকাপাররা।
মঙ্গলবার যুবভারতীতে ম্যাচের ১১ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে উরুগুয়েকে এগিয়ে দেন ডারউইন নুনেজ়। পিছিয়ে পড়েও আক্রমণের ধার বাড়ায় ভারত। ২৩ মিনিটে রায়ান উইলিয়ামসের বুলেট শট উরুগুয়ে কিপার ফিরিয়ে দিলে, ফিরতি বলে অনবদ্য গোল করে ভারতকে সমতায় ফেরান মোহনবাগানের অনিরুদ্ধ থাপা। এই গোলের মাধ্যমে ৪৪ বছর আগের এক ঐতিহাসিক স্মৃতি ফিরে এল কলকাতায়। ১৯৮২ সালে ইডেন গার্ডেন্সে জওহরলাল নেহরু গোল্ড কাপে এই উরুগুয়ের বিরুদ্ধেই গোল করেছিলেন আর এক মোহনবাগানি মানস ভট্টাচার্য। এদিন থাপার পা থেকে যেন তারই পুনরাবৃত্তি দেখল কলকাতা।
সমতা ফেরার পর যখন ভারতের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে, ঠিক তখনই ছন্দপতন ঘটে। ২৮ মিনিটে ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরৌহোর গোলে ফের এগিয়ে যায় উরুগুয়ে। এর পরেই প্রবল বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে প্রায় আধ ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। এই অনভিপ্রেত বিরতিই ভারতের ছন্দ সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন সম্পূর্ণ এক অসহায় রূপ ধরা পড়ল ক্লান্ত ভারতীয় দলের। আগের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৪-১ গোলে ওড়ানো উরুগুয়ে মাঠের দখল নিয়ে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে। আরৌহোর দ্বিতীয় গোলের পাশাপাশি জাল কাঁপান সালাজার, সানাব্রিয়া এবং আগুইরে। ভারতীয় রক্ষণের একের পর এক খামতিকে কাজে লাগিয়ে স্কোরলাইন ৬-১ করে মাঠ ছাড়ে উরুগুয়ানরা। থাপার ঐতিহাসিক গোলটি তাই শেষ পর্যন্ত শুধুই সান্ত্বনা পুরস্কার হয়ে রইল।

