হট টপিক
ট্রাম্পকে ৭ শর্ত ইরানের, না মানলে চূড়ান্ত যুদ্ধের হুঁশিয়ারি
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদন: পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইজরায়েলের সাথে চলমান সংঘাতের সাত মাস পার হওয়ার পর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার বড়সড় কূটনৈতিক চাল চালল তেহরান। যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার টেবিল প্রস্তুত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কাছে ৭টি শর্ত সম্বলিত একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসিন রেজাই সাফ জানিয়েছেন, তাঁরা এখন হোয়াইট হাউসের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন।
শনিবার সোশ্যাস মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে মহসিন রেজাই লিখেছেন, “আলোচনা শুরুর জন্য মার্কিন সরকারকে ৭টি শর্তের কথা জানানো হয়েছে। ইরানের বার্তা স্পষ্ট এবং দ্ব্যর্থহীন। নিজেদের জন্য যে গর্ত আমেরিকা খুঁড়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে এই শর্তগুলি মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই।” কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে সাতটি শর্তের সবকটি প্রকাশ্যে না আনা হলেও, প্রধান শর্তগুলোর কথা স্পষ্ট করা হয়েছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই জানান, এই শর্তগুলির মধ্যে অন্যতম হলো— মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিভিন্ন দেশে জব্দ করে রাখা ইরানের শতকোটি ডলারের আর্থিক তহবিল অবিলম্বে মুক্ত করা এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা। এছাড়া ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং ইরানি ভূখণ্ডে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার দাবিও রয়েছে এর মধ্যে।
কূটনৈতিক প্রস্তাব পাঠালেও সুর নরম করতে নারাজ তেহরান। মহসিন রেজাই স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো কাজ হবে না। আমরা চূড়ান্ত তথা ‘নির্ণায়ক যুদ্ধের’ জন্যও সম্পূর্ণ প্রস্তুত।” ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের নতুন রণকৌশল অনুযায়ী পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও আরব সাগরে থাকা মার্কিন নৌসম্পদ এবং বাণিজ্যিক স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য পরিকল্পনা সাজিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এখন দেখার, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের এই ‘ম্যাক্সিমালিস্ট’ শর্ত মেনে আলোচনার পথে হাঁটে, নাকি পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

