বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

যুব তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে স্ত্রীর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার, আটক স্বামী

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
যুব তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে স্ত্রীর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার, আটক স্বামী
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল: আলিশান বাড়ির ভিতর থেকে এক রাজনৈতিক নেতার স্ত্রীর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। মঙ্গলবার সকালে পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়া থানার কেন্দা ফাঁড়ির অন্তর্গত শোনপুর গ্রামে নিজের শ্বশুরবাড়ি থেকেই পম্পা মণ্ডল (৪০) নামে ওই বধূর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতা পম্পাদেবী পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের প্রাক্তন যুব তৃণমূল সভাপতি তথা এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নরোত্তম মণ্ডলের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই স্বামী নরোত্তম মণ্ডলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নরোত্তম ও পম্পাদেবীর দুটি সন্তান রয়েছে। তাঁদের ১৫ বছরের বড় ছেলে পড়াশোনার সূত্রে বাইরে থাকে এবং চার বছরের ছোট ছেলেটি বাবা-মায়ের সঙ্গেই শোনপুরের বাড়িতে থাকত। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ আচমকাই নরোত্তমের বিলাসবহুল বাড়ি থেকে গলগল করে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখেন প্রতিবেশীরা। বিপদের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার করে ডাকাডাকি শুরু করলেও ভিতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ মিলছিল না। শেষ পর্যন্ত কয়েকজন প্রতিবেশী বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া সিঁড়ি বেয়ে কোনওরকমে ব্যালকনিতে পৌঁছন। তাঁদের অনবরত ধাক্কাধাক্কি ও চিৎকারে ভয় পেয়ে ভিতর থেকে দরজা খুলে দেয় ওই দম্পতির চার বছরের ছোট ছেলে।

ভিতরে ঢুকতেই শিউরে ওঠেন প্রতিবেশীরা। ঘরের মেঝের ওপর সম্পূর্ণ অগ্নিদগ্ধ ও নিথর অবস্থায় পড়ে ছিলেন পম্পা মণ্ডল। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কেন্দা ফাঁড়ির পুলিশ। তারা দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার সময় নরোত্তম বাড়িতে ছিলেন না বলে দাবি করা হলেও, খবর পেয়ে তিনি ফিরলে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।পড়শিদের একাংশের চাঞ্চল্যকর দাবি, অন্য এক মহিলার সঙ্গে নরোত্তমের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম অশান্তি চলছিল। এমনকি বিষয়টি বিবাহবিচ্ছেদের মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছিল এবং একই ছাদের তলায় তাঁরা আলাদা দুটি অংশে বসবাস করতেন। এই পারিবারিক বিবাদের জেরেই পম্পাদেবী আত্মহত্যা করেছেন, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও গভীর রহস্য বা খুন জড়িয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের না হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কর্তারা।