পুজোর পরেই পুরভোট? সংগঠন মজবুত করতে অলআউট প্রচারে নামছে বিজেপি
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি বছরে দুর্গাপুজোর পরেই কি তবে তিলোত্তমায় বাজবে পুরভোটের দামামা? এই জোরালো সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই এখন থেকে কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। আসন্ন কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বুথ স্তর থেকে সংগঠন গোছাতে দলীয় নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দিল বিজেপির শীর্ষ মহল। বুথ কমিটি গঠন থেকে শুরু করে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনসংযোগ বৃদ্ধি— ভোটের রণকৌশল তৈরিতে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না গেরুয়া শিবির। আর এই প্রচারের অন্যতম মূল হাতিয়ার হতে চলেছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো।
সম্প্রতি উত্তর কলকাতার মানিকতলা ও জোড়াসাঁকো বিধানসভা কেন্দ্রের ওয়ার্ডভিত্তিক এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে বসেছিল বিজেপি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, প্রবীণ বিজেপি নেত্রী মীনা দেবী পুরোহিত, বিজয় ওঝা-সহ স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি, বুথ সভাপতি এবং ওয়ার্ড ইনচার্জরা। আসন্ন পুরভোটের কথা মাথায় রেখে এই বৈঠকেই নিচু তলার কর্মীদের ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছেন, পুজো মণ্ডপগুলিকে জনসংযোগের মূল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
দলীয় সূত্রে খবর, এ দিনের বৈঠকে মূলত সংগঠনের ফাঁকফোকর ও দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দলের অন্দরে কড়া বার্তা দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এলাকায় তোলাবাজি বা কোনো রকম দুর্নীতির হদিশ মিললে দল তা বরদাস্ত করবে না। তোলাবাজি রুখতে বিজেপির অবস্থান যে অত্যন্ত কঠোর, তা কর্মীদের বুঝিয়ে দেন রাজ্য সভাপতি। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটের পর কলকাতা পুরসভা এলাকাগুলিতে নিজেদের জমি শক্ত করাই এখন বিজেপির প্রধান চ্যালেঞ্জ, আর সেই লক্ষ্যেই পুজোর আগে থেকেই প্রচারের পারদ চড়াতে চাইছে তারা।

