পনেরো দিনেই ফিরতে হবে, দলত্যাগীদের ডেডলাইন মমতার
নিজস্ব প্রতিনিধি: ভোটে বিপর্যয়, তারপর আড়াআড়ি ভাঙন। ‘আসল তৃণমূল’ সাজার লড়াইয়ে উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই নির্বাচন কমিশন ফ্রিজ করে দিয়েছে দলীয় নাম এবং প্রতীক। নজিরবিহীন এই সংকটের মাঝেই এবার দলত্যাগীদের ফের ‘ঘরে ফেরার’ চরম সময়সীমা বেঁধে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক জনসভায় দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে নেত্রীর এই অডিও বার্তা শোনানো হয়। মোবাইল ফোনে সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমোকে বলতে শোনা যায়, “যাঁদের আপনারা কষ্ট করে জিতিয়েছেন, তাঁদের টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছে। এরা বেইমান, এরা গদ্দার, এরা বিশ্বাসঘাতক, এদের কোনও ক্ষমা করবেন না।” এর পরেই দলত্যাগীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি যোগ করেন, “এখনও যাঁরা ফিরতে চান, তাঁদের আমি বলব, ১৫ দিনের মধ্যে ফিরে আসতে হবে। আর যদি না পারেন, কোনও প্রয়োজন নেই, আমরা আমাদের মতো করে নেব।”
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই ভাঙন ধরেছে ঘাসফুল শিবিরে। তিন-চতুর্থাংশ বিধায়ক এবং সিংহভাগ সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করে দল ছেড়েছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করায় উপনির্বাচনের ঠিক আগে প্রতীক ও নাম হাতছাড়া হয়েছে মমতা শিবিরের। এই পরিস্থিতিতে কোণঠাসা দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে ও বিক্ষুব্ধদের শেষ সুযোগ দিতেই তৃণমূল নেত্রীর এই ১৫ দিনের ডেডলাইন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে গদ্দার বলে আক্রমণ এবং অন্যদিকে ১৫ দিনের মধ্যে ফেরার বার্তা—এই দ্বিবিধ কৌশলে মমতা আসলে বিদ্রোহীদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করতে চাইলেন। এখন দেখার, নেত্রীর এই হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব দিয়ে কতজন শেষ পর্যন্ত পুরনো ঘরে ফিরে আসেন, নাকি এই ভাঙন আরও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়।

