নথি কি নবান্নের ড্রয়ারে ছিল? জল্পনা উস্কে দিলেন শুভেন্দু
নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট পাওয়ার ঘটনা এবং তার চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে আসা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র দ্বৈরথ শুরু হয়েছে। সোমবার সকালে এই সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত চিকিৎসা নথি কীভাবে প্রকাশ্যে এল, তা জানতে চেয়ে এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিস পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। তবে বিকেল গড়াতেই নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে তার পাল্টা জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই নথি হাসপাতাল থেকে নয়, বরং নবান্নের চোদ্দো তলায় খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ফেলে যাওয়া ড্রয়ার থেকেই সংগৃহীত হতে পারে।
সোমবার সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অর্ক নাগ ই-মেলের মাধ্যমে এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তা, এমএসভিপি এবং স্নায়ুরোগ বিভাগের প্রধানকে কড়া আইনি চিঠি পাঠান। তাঁর অভিযোগ ছিল, একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও গোপনীয় চিকিৎসাগত তথ্য কোনও সরকারি সংস্থা বা হাসপাতাল এভাবে নিয়ম ভেঙে অনুমতি ছাড়া অন্য কারও হাতে তুলে দিতে পারে না। এই নোটিসে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়, আইন বহির্ভূতভাবে কীভাবে এই নথির কয়েকটি পাতা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর হাতে পৌঁছাল।
বিকেলে নবান্ন থেকে এই আইনি পদক্ষেপের কড়া প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, “কাগজ এসএসকেএমে ছিল না, থাকার কথাও নয়”। এরপরই তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়ে জল্পনা বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উনি ভেবেছিলেন চতুর্থ বার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এখানে আসবেন। ওঁর ড্রয়ারেই অনেক কাগজ ছিল, সব নিয়ে যেতে পারেননি।” শুভেন্দু আরও জানান, ২০২১ সালের ওই ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই মামলা করেছিলেন যা সিআইডির হাতে গিয়েছিল। তাই দরকারে তিনি নথির আসল উৎস প্রকাশ্যে আনবেন।
আইনি লড়াইয়ের এই টানাপড়েনের মাঝে শুভেন্দুর মন্তব্য, “বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে না বলুন। এক্স-রে প্লেট, এমআরআই যদি দেখাতে শুরু করি, বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন না।” নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক মুখে এই 'মেডিক্যাল রেকর্ড' বিতর্ককে কেন্দ্র করে প্রাক্তন বনাম বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

