হট টপিক
পর্দায় স্পর্ধিত প্রেমের সেই আবেদন স্তব্ধ, প্রয়াত ‘মৌচাক’ খ্যাত মিঠু মুখোপাধ্যায়
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদন: “বেশ করেছি, প্রেম করেছি, করবই তো”— রূপোলি পর্দায় তাঁর ঠোঁটে এই স্পর্ধিত সংলাপ শুনেই সত্তরের দশকে বাঙালি কন্যারা শিখেছিলেন ভালোবাসার নতুন এক ভাষা। অভিনয়ের দক্ষতার চেয়েও শরীরী আবেদন ও গ্ল্যামারের এক জাদুকাঠিতে সে যুগে তামাম দর্শকহৃদয়ে ঝড় তুলেছিলেন তিনি। দুটো গভীর মায়াবী চোখ আর ওষ্ঠাধরে চেনা সেই অর্থপূর্ণ হাসির অধিকারিণী, সত্তরের দশকের সেই কালজয়ী নায়িকা মিঠু মুখোপাধ্যায় আর নেই। রবিবার রাতে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। প্রায় এক বছর ধরে মারণরোগ ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।
চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ (১৯৭১) ছবি দিয়ে বড়পর্দায় পা রাখলেও, ১৯৭৩ সালে দীনেন গুপ্তের ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ ছবির হাত ধরে রাতারাতি খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে যান মিঠু। আলিবাবার পরিচারিকা মর্জিনা চরিত্রটি তাঁকে বাঙালির মনিকোঠায় স্থায়ী জায়গা করে দেয়। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে রঞ্জিত মল্লিক— তৎকালীন টলিউডের তাবড় নায়কদের বিপরীতে একের পর এক সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। ‘মৌচাক’, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, ‘নিশিকন্যা’, ‘হোটেল স্নো ফক্স’-এর মতো কালজয়ী ছবিগুলো আজও দর্শকদের স্মৃতিতে অমলিন। শুধু বাংলাই নয়, ‘খান দোস্ত’, ‘দিল্লাগি’ বা ‘সফেদ ঝুট’-এর মতো ছবির মাধ্যমে বলিউডেও নিজের অভিনয়ের স্বাক্ষর রেখেছিলেন তিনি, যেখানে তাঁর সহ-অভিনেতা ছিলেন রাজ কাপুর বা শত্রুঘ্ন সিনহার মতো তারকারা।
গড়পড়তা বাঙালি নায়িকাদের চেনা ছক ভেঙে পর্দায় আধুনিক মনন ও সাহসী আবেদনের যে ধারা তিনি তৈরি করেছিলেন, তা ছিল এক্কেবারে ব্যতিক্রমী। তবে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ‘আশ্রিতা’ (১৯৯০) ছবির পর খ্যাতির মধ্যগগনে থাকাকালীনই একপ্রকার স্বেচ্ছাবসর নেন তিনি। দক্ষিণ কলকাতার নিজের বাড়িটি বিক্রি করে দিয়ে পাকাপাকিভাবে পাড়ি জমান মুম্বইয়ে। লাইমলাইট থেকে দূরে, সম্পূর্ণ অন্তরালেই কেটেছে তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায়। তাঁর প্রয়াণে টলিউড জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ চলচ্চিত্র জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় এই গুণী অভিনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শোক জ্ঞাপন করেছেন।

