বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

দিল্লিতে ধৃত ভুয়ো চিকিৎসক সায়দুল ইসলাম বর্ধমান আদালতে

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর, ২০২৬
দিল্লিতে ধৃত ভুয়ো চিকিৎসক সায়দুল ইসলাম বর্ধমান আদালতে
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভুল চিকিৎসায় শিশুমৃত্যুর ঘটনায় দিল্লি বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হওয়া ভুয়ো চিকিৎসক সায়দুল ইসলামকে বর্ধমানে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে রাজধানী থেকে গ্রেফতারির পর, সেই রাতেই পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে বর্ধমান নিয়ে আসা হয়। এর পর বুধবার ধৃত সায়দুলকে বর্ধমান আদালতে হাজির করানো হয়।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই ভুয়ো চিকিৎসকের জালিয়াতির জাল কতদূর বিস্তৃত, তা জানার জন্য তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে বিশদে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এই কারণে ধৃত সায়দুল ইসলামকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী ও তদন্তকারী আধিকারিকেরা। ওই চিকিৎসকের ভুয়ো ডিগ্রি এবং কোন কোন হাসপাতালের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে বর্ধমানের নবাবহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৪ বছরের এক শিশুর ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগ ওঠে সায়দুলের বিরুদ্ধে, যার জেরে শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই দাড়ি-গোঁফ কেটে ভোল বদলে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁর নামে ‘লুক আউট নোটিস’ জারি হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, বর্ধমানের নবাবহাট এলাকার এক নার্সিংহোম মালিকের সহায়তায় সায়দুল চলে যান দুবাইয়ে। ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ নিয়ে ২৮ দিন দুবাইয়ে কাটান তিনি। সেখান থেকেও তিনি স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন হোয়াটসঅ্যাপে।

জানা যায়, বর্ধমানের বেশ কয়েকটি নার্সিংহোমে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর অংশীদারি ছিল। তা নিয়েও স্ত্রীর থেকে খবর নিতেন সায়দুল। এর মধ্যে বেশ কিছু নার্সিংহোম নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। সায়দুলের স্ত্রীকে সেই নার্সিংহোমগুলোর অংশীদারিত্ব থেকেও বাদ দেওয়া হয়। সায়দুল যে নার্সিংহোমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, বন্ধ করে দেওয়া হয় সেটাও। গ্রেপ্তার করা হয় ওই নার্সিংহোমের অন্য দুই মালিককে। এবার পাকাপাকিভাবে রাজ্য ছেড়ে হায়দরাবাদ হয়ে দুবাইয়ে পালিয়ে যাওয়ারও পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে পুলিশ তাঁকে পাকড়াও করে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্ধমান শহর ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসার নামে এমন ভয়াবহ প্রতারণার ঘটনা সামনে আসায় ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ নাগরিকেরা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরব হয়েছেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই ধরনের ভুয়ো চিকিৎসকের কোনও ক্ষমা নেই। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অপরাধে ধৃত সায়দুল ইসলামের যাতে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তি হয়, সেই আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ভুয়ো চিকিৎসকদের রুখতে প্রশাসন যে কড়া পদক্ষেপ করবে, সেই আশ্বাসও মিলেছে সরকারের তরফ থেকে।