বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
হট টপিক

জীবনে ধর্ম নেমে আসুক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জীবনে ধর্ম নেমে আসুক
সন্দীপ সিনহাসন্দীপ সিনহা
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

স্বামীজী ছিলেন প্রযুক্তির ভক্ত। আমেরিকার পথে যাত্রার সময় জাহাজে জামশেদজী টাটার সঙ্গে আলোচনাকালে স্বামীজী শিল্পশিক্ষা দানে সমর্থ সন্ন্যাসী- সংঘ গঠনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন। পরবর্তীকালে জামশেদজী টাটা যখন বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়েছিলেন, তখন স্বামীজীর কাছে এই ব্যাপারে নেতৃত্ব নেবার আবেদন জানিয়েছিলেন। ঐহিক প্রযুক্তির ব্যাপারে যেমন স্বামীজীর প্রবল আগ্রহ ছিল ধর্মের ক্ষেত্রেও তেমনি। স্বামীজী ধর্মের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি চেয়েছিলেন। ধর্মের এই প্রযুক্তির নাম হচ্ছে প্র্যাক্টিক্যাল বেদান্ত। যে মুহূর্তে স্বামীজী প্র্যাকটিক্যাল বেদান্ত কথাটি উচ্চারণ করলেন সেই মুহূর্তে মানুষ জানল, ধর্মকে নিছক শাস্ত্রে বা উপাসনালয়ে আবদ্ধ রাখা চলবে না। শাস্ত্রের পাতা থেকে নামিয়ে এনে ধর্মকে স্থাপন করতে হবে জীবনের মধ্যে। জীবনে ধর্ম নেমে আসুক—এই ছিল বিবেকানন্দের সব থেকে বড় শিক্ষা। তিনি বলেছেন, ঈশ্বর আছেন, এই কথা বলতে বা বোঝাতে হাজার হাজার পৃষ্ঠা খরচ হয়েছে। ঈশ্বর নেই, এই কথা বলতে বা বোঝাতেও হাজার হাজার পৃষ্ঠা খরচ হয়েছে। যাঁরা সে কাজ করেছেন তারা কেউই কিন্তু ঈশ্বর নিয়ে ব্যস্ত নন। ঈশ্বর নিয়ে যে ব্যস্ত হয় সে এত কচকচির মধ্যে থাকবে না। এখানে ধর্ম মানে হিন্দু ধর্মের বা অন্য কোন ধর্মের নির্দিষ্ট কিছু আচার নয়। ধর্ম একটা চিরন্তন সত্য। সেই সত্য আছে। তা শুধু আমাদের এই শরীরেই নেই। নশ্বর এই শরীর অতিক্রম করে বর্তমান রয়েছে আমার চৈতন্যের মধ্যে। আমার চৈতন্যের সঙ্গে অন্যের চৈতন্যের সংযোগ রয়েছে। সব জড়িয়ে হয়েছে বিশ্বচৈতন্য। সেই বিশ্ব চৈতন্যের উপলব্ধি ঘটে ধর্মের মধ্য দিয়ে। এই বিশ্বচৈতন্য উপলব্ধির এক সহজ পথ হল সেবা। নিজের মধ্যে নারায়ণ আছেন, এই অনুভব করে, অপরের মধ্যে নারায়ণ আছেন, এই বোধে উদ্দীপিত হয়ে সেবা করলেই সর্বত্র নারায়ণ দর্শন ঘটবে। নারায়ণ অর্থাৎ ঈশ্বর দর্শনই তো ধর্মের লক্ষ্য।