বেদানা কি সত্যিই পুরুষের ফার্টিলিটি বাড়ায়? জানুন সত্য
বিশেষ প্রতিবেদন: বেদানা যে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী, তা নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে কোনও দ্বিমত নেই। ভিটামিন সি, কে, পটাশিয়াম, ফাইবার এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই ফল রক্তাল্পতা দূর করতে দারুণ কাজ করে। পাশাপাশি হার্টের অসুখ, উচ্চ রক্তচাপ ও হজমের সমস্যা নিয়ন্ত্রণেও বেদানার জুড়ি মেলা ভার। তবে সাম্প্রতিককালে সমাজমাধ্যমে বেদানা নিয়ে একটি নতুন দাবি ভাইরাল হয়েছে। সেখানে বেদানাকে ‘প্রাকৃতিক টেস্টোস্টেরন বুস্টার’ আখ্যা দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, এটি পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা এবং শুক্রাণুর পরিমাণ বাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। কিন্তু এই দাবির পিছনে বিজ্ঞান কী বলছে? সত্যিই কি বেদানা পুরুষের উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে?
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, সমাজমাধ্যমের এই দাবির মধ্যে আংশিক সত্যতা নিশ্চয়ই রয়েছে, তবে তা নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বেদানার রস শরীরে ‘নাইট্রিক অক্সাইড’-এর উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। এই উপাদানটি রক্তনালীকে প্রসারিত করে পুরুষদের জননাঙ্গ-সহ শরীরের সমস্ত অংশে রক্ত সঞ্চালন সচল রাখে। এছাড়া বেদানায় থাকা উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ বা কোষের ক্ষয় রোধ করে। অণ্ডকোষের কোষগুলো সুস্থ থাকায় পরোক্ষভাবে শুক্রাণুর গুণগত মান ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়। ২০১২ সালের একটি বিশেষ গবেষণায় এও দেখা গিয়েছিল যে, টানা দু’সপ্তাহ খাঁটি বেদানার রস খেলে লালাগ্রন্থিতে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কিছুটা বাড়ে।
তবে চিকিৎসকেরা স্পষ্ট করে দিচ্ছেন, বেদানা কোনও অলৌকিক ওষুধ বা ভায়াগ্রার বিকল্প নয়। এটি একটি পুষ্টিকর ফল যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু কারও যদি গুরুতর হরমোনজনিত সমস্যা বা বন্ধ্যাত্ব থাকে, তবে শুধু বেদানা খেয়ে তা দূর করা সম্ভব নয়। তার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ও সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন। তাই সমাজমাধ্যমের চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হয়ে, সুস্থ থাকতে রোজকার ডায়েটে একটি করে গোটা বেদানা রাখা যেতেই পারে, কিন্তু তাকে মোক্ষ ওষুধ ভাবা ভুল হবে।

