বাজার ও আবহাওয়া

সেনসেক্স
অপেক্ষা করুন...
আবহাওয়া (কলকাতা)
খোঁজা হচ্ছে...
সোনার দাম (১০ গ্রাম)
অপেক্ষা করুন...
১ মার্কিন ডলার (USD)
অপেক্ষা করুন...
লোড হচ্ছে...
logo
সাহিত্য সংস্কৃতি

‘শুনেছি পদধ্বনি, আসিছে উমা’, মানকরে সাড়ম্বরে উদযাপিত আগমনী উৎসব

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৬
‘শুনেছি পদধ্বনি, আসিছে উমা’, মানকরে সাড়ম্বরে উদযাপিত আগমনী উৎসব
শেয়ার করুন :
facebook iconx iconlinkedin iconwhatsapp icon

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: চারিদিকে এখন শুধু শারদোৎসবের দিন গোনার পালা। আর উৎসবের এই আনন্দকে দ্বিগুণ করতে এবং মায়ের আগমনকে স্বাগত জানাতে এক বর্ণাঢ্য আগমনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করল পূর্ব বর্ধমানের মানকরের ঐতিহ্যবাহী সংস্থা ‘মানকর মঙ্গলম’। মানকরের রাইপুর শিবতলা এলাকায় আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছিল— ‘শুনেছি পদধ্বনি, আসিছে উমা।’ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গোটা অনুষ্ঠান চত্বর কার্যত এক টুকরো পুজো মণ্ডপের চেহারা নেয়।

এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘মানকর মঙ্গলম’-এর সম্পাদক মলয় শুক। তিনি তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, ‘‘বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র। বছরের এই দিনগুলিতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক হয়ে উৎসবে শামিল হই। আমাদের সংস্থার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস সেই সম্প্রীতি ও আনন্দকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই।’’ এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার যুগ্ম সাংস্কৃতিক সম্পাদক ড. প্রবীর কুমার পাল এবং ড. অরিজিৎ ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানটি সফল করতে তাঁদের যৌথ পরিকল্পনা বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছে উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে।

এ দিনের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মূল আকর্ষণ ছিল আবৃত্তি, নাচ এবং আগমনী গানের সুরের মূর্ছনা। চিরাচরিত আগমনী গানগুলি রাইপুর শিবতলা এলাকার পরিবেশকে ভক্তি ও আনন্দের এক অদ্ভুত মেলবন্ধনে ভরিয়ে তোলে। 

এদিন সংগীতে ছিলেন রূপসা গুহঠাকুরতা,অয়ন কর্মকার,দেবস্মিতা গোস্বামী,দেবাঙ্গনা গুহঠাকুরতা। তবলায় ইন্দ্রনীল ঘোষ। নৃত্যের শিল্পীরা হলেন দেবপ্রিয়া দত্ত, জ্যোতির্ময়ী ঘোষ, ঝিলিক লোহার,সাথী রায়, কেয়া লোহার। আগমনী পর্যায়ের স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন সংস্থার অন্যতম সাংস্কৃতিক সম্পাদক ড. প্রবীর কুমার পাল। অনুষ্ঠানের ভাষ্য রচনা করেন সংস্থার সাংস্কৃতিক সম্পাদক ড.অরিজিৎ ভট্টাচার্য। ভাষ্য পাঠে ছিলেন মলয় কুমার শুক্ল, দেবদ্যুতি রায়, দেবস্মিতা গোস্বামী, নন্দিনী কুন্ডু, শায়ক শুক্লা। আবহ সংগীত আয়োজন করেন অর্ঘ্য কোনার। অনুষ্ঠানটি সংযোজনা করেছেন স্বনামধন্য চিকিৎসক ডাঃ আশীষ কোনার।

শারদীয় উৎসবের প্রাক্কালে গ্রামীণ বাংলায় এই ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে চিরাচরিত সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মনে করছেন উপস্থিত দর্শকরা। সব মিলিয়ে, পুজোর ঠিক মুখে মুখে মানকর মঙ্গলমের এই বিশেষ উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের শারদ আনন্দের স্বাদ এনে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

আরও সাহিত্য সংস্কৃতি