ভুতনির বন্যাদুর্গতদের ২৪২ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ঘরবাড়ি, চাষের জমি সব কেড়েই চলেছে রাক্ষুসে গঙ্গা। এক বছর ধরে সপরিবারে ত্রিপলের নীচে কোনওরকমে দিন কাটছিল তাঁদের। তার মধ্যেই চলতি বছরে উত্তরাখণ্ড ও বিহার থেকে নেমে আসা বিপুল জলের তোড়ে গঙ্গা আরও ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। ফলে নতুন করে মালদার মানিকচকের ভুতনির চর সহ বিস্তীর্ণ এলাকার প্লাবন-পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে সেই বন্যা ও ভাঙন দুর্গতদের জন্য ২৪২ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বৃহস্পতিবার মালদহের মানিকচক ও রতুয়ার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী। রঘুনাথপুরের ত্রাণ বণ্টন শিবির থেকে তিনি এই বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা করেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মানিকচক, রতুয়া-১ এবং ইংরেজবাজার ব্লকের মোট ২৪ হাজার ৫৯৫টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এই সরকারি সাহায্য সরাসরি নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাবেন। যার মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য পরিবার পিছু ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৯০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
এদিন ভুতনির বানভাসি মানুষদের দুঃখকষ্টের কথা শুনে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, বিগত সরকারগুলি বছরের পর বছর ধরে ভুতনি বা মানিকচকের বন্যা সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান করেনি। কিন্তু তাঁর সরকার দুর্গতদের এভাবে ফেলে রাখবে না। গঙ্গা ভাঙন রোধের স্থায়ী উপায়ের জন্য ইতিমধ্যেই আইআইটি কানপুরকে (IIT Kanpur) বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে ডিপিআর (DPR) তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র সরকারের কাছে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য ৩৩০০ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই মঞ্জুর হয়েছে বলে তিনি জানান। পুজোর উপহার হিসেবে ৫ হাজার পরিবারের হাতে নতুন পোশাক, মশারি, খাদ্য সামগ্রী ও ত্রিপল তুলে দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছে রাজ্য প্রশাসন।

