রাজ্য
লোকসানের কোপ: দুই অর্থবর্ষে বন্ধ হচ্ছে ১৪৭টি কয়লাখনি
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: লাভজনক নয়, এই যুক্তিতে চলতি ও আগামী অর্থবর্ষের মধ্যে দেশজুড়ে ১৪৭টি কয়লাখনি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রক। ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত কয়লা উৎপাদক সংস্থাগুলিকে খনিগুলির নাম এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রের এই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ইসিএল (ECL) এবং বিসিসিএল (BCCL)-এর অধীনস্থ চারটি গুরুত্বপূর্ণ খনিও।
কোন খনিটি কোন অর্থবর্ষে বন্ধ করা হবে, চিঠিতে তার স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছে মন্ত্রক। কেন্দ্রের পাঠানো তালিকায় স্থান পেয়েছে এ রাজ্যের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ইসিএল) জামুড়িয়া গ্রুপ অফ মাইন্স ও জামুড়িয়া সেন্ট্রাল মাইন্স। এর পাশাপাশি ভারত কোকিং কোল লিমিটেডের (বিসিসিএল) অধীনস্থ বরাকরের চঞ্চু ভিক্টোরিয়া এরিয়ার দু'টি কোলিয়ারিও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই মেগা সিদ্ধান্তের ফলে স্বাভাবিকভাবেই শিল্পাঞ্চল জুড়ে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আসানসোল-রানিগঞ্জ ও বরাকর খনি অঞ্চলের শ্রমিক সংগঠনগুলি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করেছে। স্থায়ী শ্রমিকদের অন্য খনিতে বদলি করা হলেও, হাজার হাজার ঠিকাকর্মী ও খনি-নির্ভর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
কয়লা মন্ত্রকের দাবি, যেসব খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের খরচ আয়ের তুলনায় অনেক বেশি এবং যেগুলি দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে চলছে, সেগুলি সচল রাখা আর সম্ভব নয়। উৎপাদন খরচ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির দিকে রূপান্তরের লক্ষ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ। তবে উৎসবের মরসুমের মুখে এই বন্ধের তালিকায় বাংলার খনিগুলির নাম থাকায় ক্ষোভের বারুদ জমছে শ্রমিক মহলে। খনি অঞ্চলের অর্থনীতি যাতে পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে, তার জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবিতে ইতিমধ্যেই আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাম ও তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনগুলি।

