১৬ সেপ্টেম্বর খুলছে জঙ্গল, ডুয়ার্সে বুকিংয়ের চড়া গ্রাফ
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: বর্ষার দীর্ঘ বিরতি শেষে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ফের খুলছে উত্তরবঙ্গের জঙ্গল। আর নতুন পর্যটন মরশুমের শুরুতেই ডুয়ার্স জুড়ে বুকিংয়ের বহর দেখে মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের। হোমস্টে থেকে শুরু করে লাটাগুড়ি, জলদাপাড়া বা গরুমারার রিসর্ট— সর্বত্রই এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। ব্যবসায়ীদের দাবি, পুজোর ছুটির অনেক আগে থেকেই যেভাবে ডুয়ার্সমুখী হচ্ছেন পর্যটকেরা, তাতে এবারের মরশুমে ব্যবসার গ্রাফ অনেকটাই ঊর্ধ্বমুখী থাকবে।
তবে বুকিংয়ের এই জোয়ারের মধ্যেও আক্ষেপ রয়ে গিয়েছে পর্যটন মহলে। ব্যবসায়ীদের মতে, জঙ্গল ভ্রমণের মূল আকর্ষণ হলো জিপসি সাফারি। এই জিপসি সাফারির টিকিট কাটার ব্যবস্থা যদি পুরোপুরি অনলাইন করে দেওয়া যেত, তবে পর্যটকদের ঢল আরও কয়েক গুণ বেড়ে যেত। বর্তমানে অফলাইনে টিকিট কাটতে গিয়ে পর্যটকদের যে ঝক্কি পোহাতে হয়, অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলে সেই সমস্যা এক লহমায় মিটে যেত। এতে বুকিং প্রক্রিয়া অনেক বেশি স্বচ্ছ এবং সহজ হতো বলে মনে করছেন তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের এই দীর্ঘদিনের দাবি প্রসঙ্গে অবশ্য রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখনই নিয়মে কোনও বদল আসছে না। আপাতত আগের নিয়ম মেনেই, অর্থাৎ অফলাইনেই জিপসি সাফারির বুকিং প্রক্রিয়া সচল থাকবে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে এও বলেছেন যে, রাজ্য সরকার যদি সবুজ সংকেত দেয় বা নতুন কোনও নির্দেশিকা জারি করে, তবেই ভবিষ্যতে জিপসি সাফারিতে অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবা হবে।
আপাতত অনলাইনের জট কাটুক না কাটুক, ১৬ তারিখের অপেক্ষায় দিন গুনছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। বুকিংয়ের এই চাঙ্গা বাজার ধরে রাখতে কোমর বাঁধছেন ডুয়ার্সের ব্যবসায়ীরাও। সব মিলিয়ে, পুজো আসার আগেই সবুজ জঙ্গলের টানে উত্তরবঙ্গে পর্যটনের চাকা যে বেশ জোরেই ঘুরতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

