রাজ্য
বোনের ‘অপমানের বদলা’ নিতে শিক্ষিকাকে মারধর ও ইট ছোড়ার অভিযোগ দিদির বিরুদ্ধে
প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, গোবরডাঙা: স্কুলে না যাওয়ার কারণে বোনকে বকুনি দিয়েছিলেন শিক্ষিকা। আর সেই ‘অপরাধে’ বোনের পাশে দাঁড়াতে এসে খোদ স্কুলের শিক্ষিকাকেই মারধর, এমনকী তাঁকে ইট ছুড়ে মারতে যাওয়ার অভিযোগ উঠল দিদির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা গার্লস হাইস্কুলে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই স্কুলের পক্ষ থেকে গোবরডাঙা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই তরুণীর বোন ওই স্কুলেরই একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। কিন্তু নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে সে নিয়মিত স্কুলে আসছিল না। হাতে গোনা মাত্র কয়েক দিন সে ক্লাসে উপস্থিত ছিল। ছাত্রীর এই অনিয়মিত আচরণের জন্য স্কুলের শিক্ষিকারা তাকে ডেকে সতর্ক করেন এবং বকুনি দেন।
অভিযোগ, বোনকে বকাঝকার কথা জানতে পেরে মঙ্গলবার ওই তরুণী সোজা স্কুলে চলে আসেন। ঘটনাচক্রে, তিনি নিজেও ওই স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্রী। স্কুলে ঢুকেই তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে অত্যন্ত অভব্য আচরণ শুরু করেন এবং গোটা ঘটনাটির সমাজমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করতে থাকেন।
সেই সময় স্কুলের এক শিক্ষিকা তাঁর এই আচরণের প্রতিবাদ করেন এবং মোবাইল ফোনে ভিডিয়ো রেকর্ডিং বন্ধ করতে বলেন। অভিযোগ, এতেই চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন ওই প্রাক্তনী তরুণী। তিনি কর্তব্যরত শিক্ষিকার ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে মারধর করেন। শুধু তাই নয়, স্কুল চত্বর থেকে ইট তুলে এনে তিনি ওই শিক্ষিকাকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারার চেষ্টাও করেন বলে অভিযোগ।
এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর থেকেই স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা জানান, শিক্ষাঙ্গনের ভেতরে এই ধরনের গুন্ডামি ও শিক্ষিকাদের ওপর শারীরিক হেনস্থা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের কাছে তাঁরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। গোবরডাঙা থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত তরুণীর খোঁজ চালানো হচ্ছে।

