প্রধান শিক্ষক নিগ্রহ: নড়েচড়ে বসল রাজ্য শিক্ষা দপ্তর
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় এ বার নড়েচড়ে বসল রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর। স্কুল চত্বরে শিক্ষক দিবসের খাওয়াদাওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে।
শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, বিকাশ ভবনের শীর্ষ কর্তারা এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সচিব বিনোদ কুমার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুইকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্ত পর্যন্ত স্কুল চত্বরে আসলে কী ঘটেছিল এবং কেন ছাত্ররা এমন চরম আচরণ করল, তার গোটা ক্রমপর্যায় যেন খতিয়ে দেখা হয়। একই সঙ্গে, ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই স্কুলে কোনো অভ্যন্তরীণ অভিযোগ, ক্ষোভ বা অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল কি না, তাও এই তদন্তে স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শিক্ষক দিবস উপলক্ষে স্কুলে বিশেষ খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের একাংশের সঙ্গে খাবার বণ্টন ও মিড ডে মিলের মান নিয়ে বচসা বাধে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, প্রধান শিক্ষককে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই চারদিকে নিন্দার ঝড় ওঠে। এর পরেই কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা দপ্তর।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক ইতিমধ্যেই জিলা স্কুল পরিদর্শনে গিয়েছেন এবং ঘটনার রাতে ও তার আগে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে শিক্ষক ও ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলছেন। স্কুলের পরিবেশ দ্রুত স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ঠিক করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

