উৎসবের মুখে স্বস্তি হকারদের, কড়া নির্দেশ এনএইচআরসির
নিজস্ব প্রতিনিধি: দুর্গাপুজো, নবরাত্রি ও দীপাবলির মুখে বড়সড় স্বস্তি পেলেন ছোট ব্যবসায়ী, হকার এবং ফুটপাতের ছাঁট বিক্রেতারা। উৎসবের মরশুমে তাঁদের রুজি-রোজগারে যাতে কোনওরকম আঘাত না আসে, তা নিশ্চিত করতে কড়া নির্দেশ দিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)। এই মর্মে দেশের সবকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের বিশেষ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, উৎসবের কেনাকাটার এই মরশুমে স্থানীয় ব্যবসায়ী বা স্ট্রিট ভেন্ডরদের অযথা উচ্ছেদ করে তাঁদের জীবিকা অর্জনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অনেক সময়ই উৎসবের সময় ভিড় সামলাতে বা সৌন্দর্যায়নের নামে হকারদের হঠিয়ে দেওয়া হয়। মানবাধিকার কমিশন এবার তাতে রাশ টানল। তবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে যদি কোনও বিক্রেতাকে সরাতেই হয়, তবে তাঁকে পুনর্বাসন দিতে হবে। অর্থাৎ, বেচাকেনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে উপযুক্ত বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করা বাধ্যতামূলক।
এর পাশাপাশি হকার ও ছোট ব্যবসায়ীদের হেনস্তা রুখতেও কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হকারদের পণ্য একতরফাভাবে আটকে রাখা, তাঁদের ভয় দেখানো বা তোলাবাজির মতো অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ছোট ব্যবসায়ীদের রুজি-রোজগারে যাতে কোনওরকম অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হয়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে রাজ্যগুলিকে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই মানবিক সিদ্ধান্তে স্বভাবতই খুশি দেশের কোটি কোটি প্রান্তিক ব্যবসায়ী। উৎসবের মরশুমই তাঁদের বছরের প্রধান উপার্জনের সময়। কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে বেচাকেনা করতে পারবেন, তেমনই উৎসবের বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষও তাঁদের হাতের নাগালে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

