রাজ্য
সাংসদ পদ খারিজের নোটিস দলবদলুদের, সুপ্রিম কোর্টে হাজিরার নির্দেশ
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দলবদলু ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ খারিজের মামলায় এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল দেশের শীর্ষ আদালত। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে নবগঠিত এনসিপিআই (NCPI) শিবিরে যোগ দেওয়া ওই ২০ জন সাংসদের ঠিকানায় এবার স্পিড পোস্টে পৌঁছতে শুরু করেছে সুপ্রিম কোর্টের নোটিস। গত ২৫ অগস্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত ওই সাংসদদের বক্তব্য জানতে চেয়ে যে নোটিস জারি করেছিল, তা-ই এবার আইনি প্রক্রিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ওই দিন দলত্যাগী সাংসদদের ব্যক্তিগতভাবে অথবা তাঁদের আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে যে মামলা করেছিলেন, তার জবাবও দিতে হবে ওই নোটিসে।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলা এই দলবদল কাণ্ডে গত ১৮ জুন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে প্রথম আবেদন জমা দিয়েছিলেন অভিষেক। ওই ২০ জন দলত্যাগী সাংসদের সদস্যপদ খারিজের জন্য সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছিল তৃণমূলের তরফে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও লোকসভার স্পিকার এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। এমনকি ওই ২০ জনকে এনসিপিআই-এর সাংসদ হিসেবেও সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তহীনতা এবং দীর্ঘ বিলম্বের বিরুদ্ধেই শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল নেতার মামলার ভিত্তিতেই গত ২৫ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট কড়া অবস্থান নেয়। ওই ২০ জন সাংসদের পাশাপাশি খোদ লোকসভার স্পিকার এবং সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্যও জানতে চায় আদালত। শীর্ষ আদালতের এই তৎপরতার পরেই নড়েচড়ে বসেছে লোকসভা সচিবালয়ও। স্পিকারের নির্দেশে ইতিমধ্যেই লোকসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকেও ওই সাংসদদের কাছে আলাদা নোটিস পাঠিয়ে এই দলবদল প্রসঙ্গে জবাব চাওয়া হয়েছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লোকসভা সচিবালয়ে তাঁদের লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে আইনি ও সংসদীয়— দু’দিক থেকেই এখন চরম চাপে দলবদলু সাংসদেরা।

