জোড়াফুল অতীত, দুই তৃণমূল নতুন প্রতীকের খোঁজে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ঠিক মুখে চরম নাটকীয় মোড় রাজ্যের রাজনীতিতে। জোড়াফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এক অভূতপূর্ব নির্দেশ জারি করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। উভয় গোষ্ঠীর বিরোধের জেরে নির্বাচন কমিশন এক অন্তর্বর্তী নির্দেশে 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' নাম এবং দলের ঐতিহ্যবাহী 'জোড়াফুল' প্রতীক ব্যবহারের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। যার ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই গোষ্ঠীর কেউই নিজেদের পরিচিত দলীয় পরিচয় ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না।
কমিশনের এই ধাক্কার পর এবার দুই শিবিরেরই পাখির চোখ নির্বাচন কমিশনের মুক্ত প্রতীকের (ফ্রি সিম্বল) তালিকার দিকে। নির্বাচন কমিশনের বর্তমান তালিকায় রয়েছে মোট ১৮৪টি মুক্ত প্রতীক। জোড়াফুল হারানোর পর এই বিচিত্র প্রতীকের তালিকা ঘিরেই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এই তালিকায় যেমন রয়েছে প্রাত্যহিক জীবনের নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রী, তেমনই রয়েছে কিছু অদ্ভুত ও মজাদার প্রতীক। তালিকায় চোখ রাখলে দেখা যাচ্ছে— এসি, আলমারি, আপেল, চুড়ি, দূরবীন, কম্পিউটার, সিসিটিভি ক্যামেরা, ব্যাটারি টর্চ, কেক, বিস্কুট, ক্যাপসিকাম, বাইনোকুলার থেকে শুরু করে কোট ও কানের দুলের মতো নানা বিচিত্র জিনিস।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, দুই পক্ষকেই নতুন দলীয় নাম এবং পছন্দের চিহ্নের জন্য তিনটি করে বিকল্প জমা দিতে বলা হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যেই এই বিকল্প নামের তালিকা ও মুক্ত প্রতীকের অগ্রাধিকার কমিশন দপ্তরে পাঠানোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
আপাতত আইনি লড়াই ও প্রতীক যুদ্ধের আবহে তৃণমূলের কোন গোষ্ঠী কোন প্রতীক বেছে নেয়, সেটাই দেখার। জোড়াফুলের বদলে আলমারি, আপেল নাকি এসি— কোন চিহ্নে ভোটদাতাদের দুয়ারে দুই গোষ্ঠী হাজির হয়, তা নিয়েই এখন সরগরম বাংলার রাজনীতি।

