কৃষিতে বিপুল ভর্তুকি নবান্নের, লক্ষ্য সাড়ে সাতষট্টি হাজারেরও বেশি চাষি
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের অন্নদাতাদের আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং চাষবাসকে আধুনিক প্রযুক্তির ছাঁচে ঢালতে একগুচ্ছ বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কৃষিকাজকে আরও লাভজনক, সহজসাধ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে নতুন একটি সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আধুনিক কৃষিযন্ত্র কেনা এবং ভাড়া দেওয়ার পরিকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
নবান্ন সূত্রের খবর, রাজ্যের প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার্থে সব মিলিয়ে প্রায় ৬৭,৫৮৫ জন চাষিকে সরাসরি সরকারি সাহায্যের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। মূলত দামি কৃষি যন্ত্রপাতি কেনা এবং কম খরচে তা ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করতেই এই অভিনব উদ্যোগ। সেই লক্ষ্যেই রাজ্য জুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে ৫০০টি কৃষি যন্ত্রাদি ভাড়া কেন্দ্র বা কাস্টম হায়ারিং সেন্টার। পাশাপাশি, আরও উন্নত পরিকাঠামোর জন্য ১০৮৫টি ফার্ম মেশিনারী ব্যাঙ্ক বা হাব তৈরি করবে রাজ্য সরকার। এর ফলে ক্ষুদ্র চাষিরা নামমাত্র খরচে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
শুধু ট্র্যাক্টর বা পাওয়ার টিলারই নয়, এবার বাংলার চাষবাসে যুক্ত হতে চলেছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিও। কীটনাশক ছড়ানো থেকে শুরু করে জমির তদারকি— সব কাজেই ব্যবহার করা হবে আধুনিক ড্রোন। সেই কারণে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কৃষকদের জন্য ১০০টি অত্যাধুনিক কিষাণ ড্রোন বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কৃষিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বড় কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রকল্পে, কৃষক তালিকাভুক্ত বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্র কিনতে পারবেন। পাওয়ার টিলার, পাওয়ার উইডার, পাওয়ার রিপার, পাম্পসেট (বিদ্যুৎ/পেট্রল/ডিজেল/ সোলার), ট্রাক্টর চালিত মাল্টিক্রপ থ্রেশার/ধান ঝাড়াই যন্ত্র/ভুট্টা থ্রেশার/ চীনাবাদাম থ্রেশার, রোটাভেটর, ইঞ্জিনচালিত পাওয়ার স্প্রেয়ার, মিনি রাইস/ডাল/ তেল মিল/ মিলেট মিম্ন, মুড়ি তৈরি করার মেশিন-সহ একাধিক যন্ত্র কেনার সুযোগ থাকবে। তবে একটি যন্ত্র ক্রয় করা যাবে। বিভিন্ন যন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার। সোলার পাম্পসেটের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ ভুর্তুকি মিলবে। সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি মিলবে।
কৃষকবন্ধু (নতুন) বা ‘পিএম কিষান সম্মান নিধি’ প্রকল্পে নথিভুক্ত সকল কৃষক। সরকারি স্বীকৃত কৃষকগোষ্ঠী। কৃষি সমবায় ও স্বনির্ভর সংস্থা। বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। সরকারি বা সরকার অধিগৃহীত সংস্থায় কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মী হলে আবেদন করা যাবে না। পাওয়ার টিলার ও সোলার পাম্প সেটের যে সমস্ত কৃষকের নামে কমপক্ষে ০.৫ একর কৃষিজমির খতিয়ান তাঁরা আবেদন করতে পারবেন।

