দেশ
৭ হাজার পড়ুয়া এইচআইভি পজিটিভ, কর্নাটকে হুলস্থুল
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বেঙ্গালুরু: কর্নাটকে বিপুল সংখ্যক কলেজ পড়ুয়ার শরীরে এইচআইভি (HIV) ভাইরাসের হদিশ মেলায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য রিপোর্টে জানা গিয়েছে, রাজ্যের অন্তত ৭ হাজার শিক্ষার্থী এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত। উদ্বেগজনক বিষয় হল, আক্রান্ত এই পড়ুয়াদের প্রত্যেকের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এই রিপোর্ট সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের সরকার রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সাহায্যপ্রাপ্ত ও বেসরকারি কলেজে বাধ্যতামূলকভাবে এইচআইভি পরীক্ষা ও কাউন্সেলিং ক্যাম্প চালুর নির্দেশ দিয়েছে।
ন্যাশনাল এইডস কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (NACO)-এর একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মোট এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে কর্নাটক বর্তমানে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। রিপোর্ট বলছে, এই দক্ষিণী রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ এইচআইভি পজিটিভ। তাঁদের মধ্যে ২ লক্ষ ৫ হাজার জন অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপির (ART) মাধ্যমে চিকিৎসাধীন থাকলেও, প্রায় ৫৪ হাজার মানুষ এখনও তাঁদের এই সংক্রমণের বিষয়ে পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের অজান্তেই সংক্রমণ আরও ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের (১৮-৩৫ বছর) মধ্যে যেভাবে এই সংক্রমণ গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী, তা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
রাজ্য এইডস প্রতিরোধ সোসাইটির (KSAPS) সুপারিশে উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি কলেজগুলিতে এই সুসংহত স্বাস্থ্য শিবির করা হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীদের সামাজিক সম্মান ও গোপনীয়তার কথা মাথায় রেখে বিশেষ কিউআর কোড (QR Code) ভিত্তিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে পড়ুয়ারা তাঁদের পরীক্ষার ফলাফল সম্পূর্ণ গোপনে নিজেদের মোবাইলেই দেখতে পাবেন। পরীক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি যুবসমাজের মধ্যে এই রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা গড়ে তোলাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

