জেলা
পুরুলিয়ায় বাড়ছে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ, উদ্বেগে স্বাস্থ্যদফতর
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: ম্যালেরিয়ার চোখরাঙানিতে চরম উদ্বেগ বাড়ছে পুরুলিয়া জেলায়। স্বাস্থ্য দফতরের সরকারি হিসেব অনুযায়ী, জেলায় ইতিমধ্যেই অন্তত ৭০০ জন মানুষ এই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বান্দোয়ান ব্লকে। শুধুমাত্র এই একটি ব্লকেই ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৬০ পার করেছে। গত মরসুমেও জেলার মধ্যে বান্দোয়ানেই সর্বাধিক ম্যালেরিয়া রোগীর খোঁজ মিলেছিল, এবারও সেই চেনা ছবি না বদলানোয় কপালে ভাঁজ পড়েছে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের।
উদ্বেগের আরও একটি বড় কারণ হলো, সংক্রমণ এবার বান্দোয়ান ঘেঁষা ঝাড়খণ্ডের ঝাঁটিঝর্না, গালুডি, জলনডি ও পাকদা-সহ একাধিক সীমান্তবর্তী গ্রামেও মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশের মতে, ঝাড়খণ্ডের এই বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা চিকিৎসার জন্য বান্দোয়ানের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতেই ভিড় করছেন। ফলে ভিন রাজ্যের সঙ্গে সঠিক সমন্বয় না থাকায় রোগ নিয়ন্ত্রণে বড়সড় সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই গ্রাম স্তরে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক নতুন সংকট। আশা (ASHA) কর্মীরা বর্তমানে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সমীক্ষার কাজে অতিরিক্ত ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে তাঁরা আগের মতো নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের খোঁজ রাখতে পারছেন না। এর জেরে গ্রামীণ এলাকায় আক্রান্তদের দ্রুত চিহ্নিত করতে দেরি হয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আশা কর্মীদের একাংশ জানিয়েছেন, আগে তাঁরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে ম্যালেরিয়া নিয়ে সচেতনতা প্রচার ও দ্রুত রক্ত পরীক্ষার কাজ করতেন। কিন্তু বর্তমান ব্যস্ততার কারণে সেই নজরদারিতে বড়সড় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা স্বাস্থ্য দফতর বাসিন্দাদের মশারি ব্যবহার এবং বাড়ির চারপাশে জমা জল পরিষ্কার করার পরামর্শ দিচ্ছে। পাশাপাশি, বান্দোয়ানে দ্রুত আন্তঃরাজ্য সমন্বয় ও গ্রাম-স্তরে নজরদারি বাড়ানোর জোরালো দাবি উঠেছে।

