হট টপিক
শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন রুখতে কড়া সরকার
প্রকাশিত: ৫ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধ করতে এবার অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, সরকারি বেতন পাওয়া সত্ত্বেও বহু শিক্ষক আইন অমান্য করে রমরমিয়ে গৃহশিক্ষকতা বা প্রাইভেট টিউশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এবার এই বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) হস্তক্ষেপ করার পরেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক (DI)-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা এই ধরণের সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখেন এবং দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা করেন।
আইন অনুযায়ী, সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন (RTE Act)-এর ২৮ নম্বর ধারায় পরিষ্কার বলা আছে, কোনো সরকারি বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক কোনোভাবেই ব্যক্তিগত টিউশন বা কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। অভিযোগ উঠেছে, বহু শিক্ষক এই আইনি ধারাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিনের পর দিন টিউশন করে চলেছেন। এর ফলে স্কুলের পঠনপাঠন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনই বেকার শিক্ষিত যুবকদের টিউশন পাওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে।
স্কুল শিক্ষা দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেমন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে টিউশন করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলেই যেন তড়িৎঘড়ি তদন্ত শুরু করা হয়। দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (যেমন বেতন বন্ধ বা চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত) নেওয়া হবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকদেরও নজর রাখতে বলা হয়েছে, যাতে তাঁদের স্কুলের কোনো সহ-শিক্ষক এই বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত না থাকেন।
এর আগেও একাধিকবার সরকারি স্তরে এই বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই স্থানীয় স্তরে ঢিলেঢালা নজরদারির কারণে শিক্ষকেরা পার পেয়ে যেতেন। তবে এবার মানবাধিকার কমিশনের কড়া নোটিসের পর স্কুল শিক্ষা দফতর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

