শরীরের না মনের যন্ত্রণা
শরীরের যন্ত্রণা বেশিদিন থাকে না, মনের যন্ত্রণা কিন্তু আজীবন থাকে। শারীরিক আঘাত ওষুধ খেলে সারে। মনের আঘাত সারে না। চাপা থাকে। উত্তেজক কারণ এসে গেলে তা স্মরণে আসে এবং নাড়া দেয়। এই ধরনের ঘটনাই আমরা বারবার প্রত্যক্ষ করি। তথাপি আমাদের চৈতন্য হয় না। মানসিক যন্ত্রণার হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে কী করতে হবে? এর উত্তরে বলা যায় ঘটনাগুলিকে সহজভাবে নিতে হবে। চরম অপমানকেও হাসিমুখে বরণ করে ঘটনার মোড় ফিরিয়ে দিতে হবে। আমাদের মত সাধারন মানুষের জীবনে এই ধরনের ঘটনা অনেক সময় ঘটে থাকে। এক্ষেত্রে আমরা স্বয়ং স্বামীজীর জীবন থেকে শিক্ষা নিতে পারি। স্বামীজীর জীবনে এসব অনেক ঘটেছে। ছোট ছোট ঘটনা তাঁকে কখনোই বিব্রত করতে পারেনি। অসম্ভব ক্ষিপ্রতায় তিনি মুখের উপর জবাব দিয়ে পরিবেশকে স্নিগ্ধ-মধুর করে দিতেন। আমেরিকার রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিঙ্কনের জীবনের এরকম একটি ঘটনার কথা বলা যায়। লিঙ্কন প্রেসিডেন্ট হয়ে প্রথম তাঁর বক্তৃতা দিতে উঠেছেন। ঠিক সেই সময় একজন ঈর্ষাকাতর দাম্ভিক অভিজাত শ্রেণীর প্রতিনিধি দাঁড়িয়ে বললেন—ওহে লিঙ্কন, তুমি আজ প্রেসিডেন্ট হয়েছ কিন্তু ভুলে যেও না তোমার বাবা আমাদের পরিবারের মুচি ছিল। লিঙ্কন এতোটুকু বিচলিত না হয়ে বললেন, আমার বাবা ছিলেন একজন সৃষ্টিশীল মানুষ। তাঁর জুতো কেবলমাত্র জুতোই ছিল না। তিনি সমস্ত মন প্রাণ ঢেলে জুতো তৈরি করতেন। বাবার তৈরি জুতো নিয়ে কি আপনার কোন অভিযোগ আছে? যদি অভিযোগ থাকে তাহলে বলুন আমি আর এক জোড়া জুতো আপনাকে বানিয়ে দিতে পারি। কারণ আমি বাবার কাছ থেকে জুতো তৈরীর মুন্সিয়ানা শিখেছি। কিন্তু আমি জানি বাবার তৈরি জুতো নিয়ে আজ পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তিনি সত্যিই জিনিয়াস ছিলেন এই ব্যাপারে। তিনি ছিলেন একজন মহান কারিগর। আমি আমার বাবার জন্য গর্ববোধ করি।" এই উত্তরে সমগ্র সেনেট চমকে উঠল, ঘনঘন হাততালি পড়ল। দেশবাসী লিঙ্কনের পিতৃভক্তির জন্য প্রশংসা করল। অন্যকে অপমান করার আগে দুবার ভাবতে হয় সে অপমান নিজের উপর বর্ষিত হলে কেমন লাগে।

