হট টপিক
বিয়ের পরও মেয়েরা বাপের বাড়ির সদস্য, যুগান্তকারী রায় সুপ্রিম কোর্টের
প্রকাশিত: ৫ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিয়ে হয়ে গেলেই কি বাপের বাড়ির সঙ্গে মেয়ের সমস্ত আইনি ও পারিবারিক সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়? আমাদের সমাজ এবং বহু সরকারি নিয়মে এই বৈষম্যমূলক ধারণা দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। কিন্তু এবার এই মানসিকতায় চরম আঘাত হেনে এক ঐতিহাসিক রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘পরিবারে’র সংজ্ঞা থেকে বিবাহিত কন্যাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, স্বেচ্ছাচারী এবং সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
বিচারপতি পি এস নরসিমা এবং বিচারপতি আলোক আরাধ্যর ডিভিশন বেঞ্চ উত্তরপ্রদেশের এক মামলার শুনানিতে এই রায় দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, সমসাময়িক সামাজিক বাস্তবতায় বিয়ের কারণে বাপের বাড়ির সঙ্গে মেয়ের আত্মিক বা আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন হয় না। বিবাহিত পুত্ররা যদি পরিবারের সদস্য হিসেবে সমস্ত সরকারি ও কল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন, তবে শুধু বৈবাহিক অবস্থার কারণে কন্যাসন্তানকে বঞ্চিত করা স্পষ্টত লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং তা সংবিধানের ১৪ ও ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
মামলার প্রেক্ষাপট ও সুপ্রিম পর্যবেক্ষণ:
উত্তরপ্রদেশের আমেথির বাসিন্দা কুলসুম নিশার মা, যিনি একজন রেশন ডিলার ছিলেন, ২০২৪ সালে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর কুলসুম অনুকম্পামূলক কোটায় (Compassionate Ground) রেশন দোকানের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু এলাহাবাদ হাইকোর্ট এবং স্থানীয় প্রশাসন তাঁর আবেদন এই যুক্তিতে খারিজ করে দেয় যে, উত্তরপ্রদেশ সরকারের ২০১৯ সালের নিয়ম অনুযায়ী বিবাহিত কন্যারা ‘পরিবারের’ সংজ্ঞার আওতাভুক্ত নন।
এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কুলসুম সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্ট এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ বাতিল করে জানায়, পরিবারের আসল পরীক্ষা হওয়া উচিত আর্থিক নির্ভরশীলতা ও স্থানীয় যোগ্যতার ভিত্তিতে, বৈবাহিক অবস্থা দেখে নয়। বিয়ের পরেও কুলসুম তাঁর দৃষ্টিহীন বোনসহ পুরো পরিবারের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। শীর্ষ আদালতের এই ঐতিহাসিক রায় দেশের হাজার হাজার বিবাহিত নারীর অধিকার রক্ষা ও লিঙ্গসাম্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

