হট টপিক
দুর্নীতি লুকোতেই নথি পোড়ানোর অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে
প্রকাশিত: ৪ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কাঁকসার দোমড়ায় তৃণমূল নেতা উত্তম রুইদাসের বাড়ির পিছনে আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের প্রথম পাতা, জমির দলিল সহ একাধিক নথি পুড়তে দেখা গেল। বিষয়টি এলাকার বিজেপি নেতা কর্মীদের নজরে আসতেই তড়িঘড়ি সেখানে গিয়ে নথি উদ্ধারের চেষ্টা করেন। অভিযোগ, ওই নেতা এলাকায় দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। বিপদ বুঝেই এখন তথ্য নষ্টের চেষ্টা করছেন। তাছাড়া বাড়িতে একাধিক পানীয় জলের পাইপ পড়ে থাকতে দেখেও প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা বলেই পরিচিত ছিলেন উত্তম। একাধিক বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল তাঁর নামে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকায় সে বিষয়ে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনি। এদিন এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দা জয়দেব আঁকুড়ে বলেন, নেতার বাড়ির পিছনে মঙ্গলবার থেকে আগুন জ্বলছে। এসে দেখি আমার স্ত্রী, মা, বৌদির আধার কার্ড রয়েছে। সেগুলি পোড়ানো হচ্ছে। আর এক ব্যক্তি বলেন, উনি তৃণমূলের একজন হার্মাদ। এই এলাকায় সন্ত্রাস চালিয়েছে। ২০২১ সালে ভোটের পর থেকে বিজেপি কর্মীদের অত্যাচার করেছেন। আমার বাড়ি ভাঙার চেষ্টা করেছেন। অভিযোগ, আবাস যোজনায় যাদের বাড়ি এসেছে প্রত্যেকের থেকে পাঁচ থেকে দশ হাজার কাটমানি নিতেন। এখন নথি পুড়িয়ে প্রমান লোপাট করছেন। কিন্তু যেটুকু উদ্ধার হয়েছে তার মধ্যে জব কার্ড, দলিল রয়েছে। ভুয়ো জব কার্ড তৈরি করে ভুয়ো মাস্টার রোল তৈরি করত ওই নেতা। সেখান থেকে বেআইনি ভাবে টাকা তুলত। তাছাড়া এলাকায় থাকা পানীয় জলের কারখানার শ্রমিকদের থেকে তোলা আদায় চালাত। আমরা গ্রেপ্তারি দাবি করছি।
এদিন এক উদ্যোগপতি জানান, দোমড়া এলাকায় নিয়ম মেনে কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু ওই নেতা নিয়মিত মারধোরের হুমকি দিত। গত ডিসেম্বর থেকে প্রতি মাসে দশ হাজার করে দিতে হত। পালাবদলের পর পুলিশকে জানানো হয়েছে। বিজেপি নেতা নেপাল মজুমদার বলেন, গরীব মানুষের টাকা লুটে খেয়েছে। প্রশাসনকে জানিয়েছি।
এদিন সকালে উত্তমবাবুর বাড়িতে গেলে তাঁর দেখা মেলেনি। তাঁর পরিবারের এক সদস্য আগুন জ্বালানো নিয়ে বলেন, আমি জানি না। কে জ্বালিয়েছে দেখিনি। পাইপগুলো চালা করেছিল। যাদের জায়গা তারা বারন করেছে। তাই খুলে দিয়েছে। সকালের এই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়। কাঁকসা থানার পুলিশ তখন পরিস্থতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। পরে বিকেলের দিকে নেতাকে বাড়ি থেকেই আটক করা হয়েছে। গাড়িতে তোলার সময় চোর চোর স্লোগান ওঠে। কড়া শাস্তির দাবি জানান স্থানীয়রা।

