হট টপিক
কিমের দেশে জিনপিং: তুঙ্গে আন্তর্জাতিক জল্পনা
প্রকাশিত: ৬ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ সাত বছর পর ফের উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ৮ জুন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় লিখতে পিয়ংইয়ং পৌঁছাবেন তিনি। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, উত্তর কোরিয়ার শীর্ষনেতা কিম জং উনের বিশেষ আমন্ত্রণে জিনপিংয়ের এই দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এর আগে শেষবার ২০১৯ সালের জুন মাসে উত্তর কোরিয়া সফরে গিয়েছিলেন চিনের কমিউনিস্ট পার্টির এই শীর্ষনেতা। স্বাভাবিকভাবেই, জিনপিংয়ের এই ঝটিকা সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা ও জল্পনা শুরু হয়েছে।
চলতি বছরে জিনপিংয়ের এটাই প্রথম কোনো বিদেশ সফর হতে চলেছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরের সময়কাল বা টাইমিং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি চিনের রাজধানী বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানিয়েছিলেন শি জিনপিং। দুই মহাশক্তিধরের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কিমের দেশে পা রাখছেন চিনা প্রেসিডেন্ট। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বড় অংশের ধারণা, আমেরিকার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু বিবাদ মেটাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারেন জিনপিং। আবার অনেকে মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে উত্তর কোরিয়া যেভাবে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে, তা মাথায় রেখে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতেই চিনের এই পদক্ষেপ।
উত্তর কোরিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক মহলের একাধিক কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চিন বরাবরই দেশটির সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সহযোগী। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং তারা একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা চুক্তিতেও আবদ্ধ। কাকতালীয়ভাবে, চলতি বছরই এই ঐতিহাসিক চুক্তির ৬৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। চিনা বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উচ্চপর্যায়ের সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করা এবং এশীয় অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
কিম জং উনের প্রশাসনের জন্যও এই সফরের প্রচারমূলক গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়া যখন তাদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আরও জোরদার করছে, তখন চিনা প্রেসিডেন্টের এই উপস্থিতি তাদের হাত অনেকটাই শক্ত করবে। আগামী ৮ ও ৯ জুনের এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকে কোনো বড়সড় যৌথ ঘোষণা করা হয় কি না, এখন সেদিকেই গভীর নজর রাখছে ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বের কূটনৈতিক মহল।

