পুজোর আগেই রাস্তায় নামছে ইলেকট্রিক ও সিএনজি বাস
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যের সাধারণ যাত্রী ও বিশেষ করে মহিলাদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থায় একগুচ্ছ বড়সড় বদলের কথা ঘোষণা করলেন পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক বাস যাত্রী পরিষেবার জন্য রাস্তায় নেমে পড়েছে। এখানেই শেষ নয়, আসন্ন দুর্গাপূজার আগেই রাজ্যবাসীর সুবিধার্থে আরও একঝাঁক নতুন ইলেকট্রিক, সিএনজি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস নামানোর জোরদার প্রস্তুতি চলছে। রাজ্যের পরিবহন পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করতে কেন্দ্রের কাছে আরও ১,০০০টি নতুন বাসের আবেদন জানানো হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবির কথা মাথায় রেখে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, এস-১১ রুটের পাশাপাশি ৮৫ নম্বর এবং এমএন-৫-সহ রাজ্যের যে সমস্ত রুটে দীর্ঘদিন ধরে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে, সেগুলি দ্রুত পুনরায় চালু করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করতে ‘ওপেন-হুড’ অর্থাৎ ছাদখোলা ডাবল ডেকার বাস নামানোর একটি আকর্ষণীয় পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
বাসে যাতায়াতকারী মহিলা যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে সমস্ত সরকারি বাসে জিপিএস (GPS), সিসিটিভি ক্যামেরা এবং একটি জরুরি টোল-ফ্রি নম্বর চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এদিনের সবচেয়ে বড় চমকটি ছিল নারীদের জন্য নিখরচায় বা সস্তায় যাতায়াতের বিশেষ সুবিধা। মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশে কোনো রকম আয়ের সীমা বা যোগ্যতার কঠিন শর্ত ছাড়াই রাজ্যের সমস্ত মহিলার জন্য চালু করা হচ্ছে ‘পিঙ্ক কার্ড’। আগামী দু-চার দিনের মধ্যেই এই কার্ড বিলির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।
এর পাশাপাশি পরিবহন দপ্তরের আগের আমলের ব্যাপক দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে অর্জুন সিং দাবি করেন, অতীতে সরকারি বাসের নতুন টায়ার ও দামি যন্ত্রাংশ চুরির সিন্ডিকেট চলত। ভালো বাসের যন্ত্রাংশ খুলে চড়া দামে বাজারে বিক্রি করে দিয়ে সেখানে পুরনো স্ক্র্যাপ টায়ার লাগিয়ে রাখা হতো। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারি সম্পত্তির এই বিপুল অপচয় ও চুরি পুরোপুরি বন্ধ করা গেলেই লোকসানে চলা পরিবহন ব্যবস্থাকে খুব দ্রুত লাভজনক সংস্থায় পরিণত করা সম্ভব হবে।

