সর্বশেষ খবর
ক্ষমা পরম ধর্ম, বার্তা মোদির
প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘ক্ষমা পরম ধর্ম’— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কালজয়ী দর্শনকেই যেন বর্তমানের অশান্ত রাজনৈতিক আবহে হাতিয়ার করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার রাতে দেশের ছাত্র ও যুব সমাজের উদ্দেশে দেওয়া একটি ভিডিও বার্তায় তাঁর সেই ধৈর্যশীল এবং ক্ষমাসুন্দর মনোভাবেরই পরিচয় মিলল। যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের অতীতের সমস্ত আক্রমণ এবং কটূক্তিকে এক লহমায় ক্ষমা করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বার্তা দিলেন একতার।
বেশ কিছু দিন ধরেই যন্তর মন্তরে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন একদল আন্দোলনকারী। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতেই এদিন মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসীর সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে বিরোধীদের সমস্ত ব্যক্তিগত আক্রমণকে পাশে সরিয়ে রাখার নজির গড়লেন তিনি। ভিডিও বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘‘ওরা আমাকে তো বটেই, আমার পরলোকগত মাকেও অনেক অপমান করেছে। কিন্তু আমি ওদের ক্ষমা করে দিলাম।’’
প্রধানমন্ত্রীর মতে, রাজনীতিতে অপমান বা কটাক্ষ কখনও কোনও স্থায়ী সমাধান নিয়ে আসতে পারে না। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, নেতিবাচকতা ভুলে দেশের স্বার্থে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। মোদির কথায়, ‘‘আসুন, সকলে একসঙ্গে কাজ করি, ভারতের জন্য।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমানের হিংসা ও অসহিষ্ণুতার আবহে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রবীন্দ্রবাণীকে পাথেয় করে তিনি যেভাবে বিক্ষোভকারীদের প্রতি ক্ষমার হাত বাড়িয়ে দিলেন, তা দেশের যুবসমাজকে এক ইতিবাচক বার্তা দেবে। ক্ষোভ-বিক্ষোভের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে ডাক প্রধানমন্ত্রী দিলেন, তা আনন্দবাজার পত্রিকার ঘরানায় এক নতুন রাজনৈতিক সৌজন্যের নজির হিসেবেই দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ব্যক্তিগত আঘাতের চেয়ে দেশের ঐক্য এবং প্রগতি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

