জীবনযাপন
কম বয়সেও হানা দিচ্ছে পার্কিনসন্স, চেনা জরুরি লক্ষণ
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদন: হাত-পায়ে অনিয়ন্ত্রিত কম্পন, শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া কিংবা হাঁটাচলার গতি আচমকা শ্লথ হয়ে যাওয়া— পার্কিনসন্স বললেই সাধারণত আমাদের চোখে ভেসে ওঠে কোনও বৃদ্ধ মানুষের চেহারা। কিন্তু চিকিৎসকদের সাম্প্রতিকতম পর্যবেক্ষণ ঘুম উড়িয়েছে বিশেষজ্ঞদের। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই জটিল স্নায়ুর রোগটি এখন আর শুধু বার্ধক্যের গণ্ডিতে আটকে নেই, বরং ৪০ বছর বা তার কম বয়সীদের মধ্যেও ক্রমশ থাবা বসাচ্ছে এই ব্যাধি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ (Dopamine) নামক এক রাসায়নিকের ঘাটতি তৈরি হলে এই রোগ দানা বাঁধে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, বায়ুদূষণ, খাবারে টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি এবং জিনগত ত্রুটির কারণে কম বয়সেই স্নায়ুকোষ বা নিউরোন ধ্বংস হতে শুরু করে। এই রোগের বড় সমস্যা হলো, প্রাথমিক অবস্থায় এর লক্ষণগুলি চেনা অত্যন্ত কঠিন। অনেকেই হাত-পায়ের সামান্য কাঁপুনিকে ক্লান্তি ভেবে ভুল করেন।
তবে চিকিৎসকেরা কিছু লুকানো উপসর্গের কথা বলছেন। যেমন— হঠাৎ হাতের লেখা ছোট হয়ে যাওয়া, কথা জড়ানো, ঘুমের মধ্যে হাত-পা ছোঁড়া, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পায়ের পেশি শক্ত হয়ে গোড়ালি ফুলে যাওয়া। চিকিৎসকদের মতে, রোগ গোড়াতেই ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব না হলেও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের হাত ধরে এসেছে নতুন আশা। ওষুধ ছাড়াও এখন ‘ডিপ ব্রেন স্টিমুলেশন’ (DBS) বা মস্তিষ্কে বিশেষ পেসমেকার বসানোর মতো উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে রোগীকে অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো সম্ভব হচ্ছে। পাশাপশি, ২০২৩-২০২৬ সালের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় স্টেম সেল থেরাপির ইতিবাচক দিকও সামনে এসেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই রোগ দূরে রাখতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট যুক্ত ফল, মরসুমি শাকসবজি ও মাছ রাখা জরুরি, সঙ্গে প্রয়োজন নিয়মিত যোগব্যায়াম।

